1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং

সংখ্যালঘু পিতাপুত্রের স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে যুবলীগ নামধারী ফারুকের চাঁদাবাজী ছিনতাইয়ের ঘটনায় সুনামগঞ্জের হাসাউড়া সীমান্তে তোলপাড়

  • Update Time : সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৬
  • ২৩৪ Time View

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া গ্রামের শান্তিপ্রিয় সংখ্যালঘু নাগরিকেরা ফারুক আহমদ নামধারী এক ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজী,সন্ত্রাস ও মাতলামীতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। অভিযোগে প্রকাশ,গত ২২ আগস্ট সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় স্থানীয় হাসাউড়া গ্রামের মৃত প্রেমানন্দ পালের পুত্র পবিত্র পালের সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয় হাসাউড়া-বনগাও বাজারস্থ রেস্টুরেন্টে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে হাসাউড়া গ্রামের মোস্তফা মিয়ার পুত্র ফারুক আহমদ একটি ভারতীয় অফিসার চয়েজ মদের বোতল রাখার জন্য জোর অনুরোধ করে। রেস্টুরেন্ট মালিক পবিত্র পাল মৌখিকভাবে বেআইনী মদের বোতল তার দোকানে রাখতে পারবেননা বলে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু নাছোড়বান্ধা যুবলীগ নেতা ফারুক আহমদ প্রায় জোর করে পবিত্র পালের হাতে মদের বোতলটি ধরিয়ে দিয়েই মোবাইল ক্যামেরায় পবিত্র পাল ও মদের বোতলের ছবি উঠায়। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে সে ঢেকে আনে গ্রামের সাবেক মেম্বার আঞ্জব আলী,মৃত আব্দুল হান্নানের পুত্র জলিল মিয়া,পরেশ উদ্দিনের পুত্র আল-আমিনসহ স্থানীয় লোকজনকে। পরে হাসাউড়া-বনগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার মোঃ ইব্রাহিম এর নেতৃত্বাধীন বিজিবি টহলদলের হাতে পবিত্র পালকে তুলে দিতে উদ্যত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সংখ্যালঘু নিরীহ ব্যাবসায়ীকে অসদুদ্দেশ্যে মদের বোতল দিয়ে বিজিবির কাছে ধরিয়ে দিয়ে প্রতারক ফারুকের চাঁদাবাজীর চেষ্টাসহ ঘটনার সত্যতা ও মূল রহস্য জানতে পেরে বিজিবির টহলদল পবিত্র পালকে আটক করা থেকে বিরত থাকেন। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে বিজিবির টহলদল ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পর ফারুকসহ ৪ সদস্যের একদল চাঁদাবাজ আবার দোকানে এসে পবিত্র পালের কাছে বিজিবির নামে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। বাড়ি থেকে পবিত্র পালের ছেলে পিংকু পালকে দোকানে ডেকে এনে পিতার ন্যায় পুত্রের কাছেও এক লাখ টাকা চায় তারা। কিন্তু এত টাকা তারা কোনক্রমেই দিতে পারবেননা বলে অনুনয় বিনয় করে মদের বোতলের সাপ্লাইয়ার ফারুকের কাছে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পিতাপুত্রের কাছে নগদ টাকা না থাকায় ফারুক জামানত স্বরুপ ২টি সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষর নেয়। একপর্যায়ে তাদের ক্যাশবাক্স তল্লাসী করে ছিনতাই করে নেয় নগদ এক হাজার টাকা। পরদিন বকেয়া ৪০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য পুনরায় রেস্টুরেন্টে গিয়ে পিতাপুত্রকে চাপপ্রয়োগ করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা ক্যাম্প কমান্ডার এর কাছে মুঠোফোনে আলাপ করে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্বান্ত নিতে চাইলে ক্যাম্প কমান্ডার এ ব্যাপারে চল্লিশ হাজারতো দূরের কথা কাউকে চল্লিশ পয়সাও না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসী ফারুক ও তার বাহিনী সংখ্যালঘু নিরীহ ব্যাবসায়ী পবিত্র পাল ও তার ছেলেকে খুন করার হুমকী দেয়। রোববার বিকেলে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ফারুক আহমদ নিজেকে ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলে,কে বা কারা আমাদের বিরুদ্ধে পত্রিকা অফিসে এসব অভিযোগ করেছে কার এতবড় সাহস ? এ প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগন বিষয়টি পত্রিকা অফিসে জানিয়েছে বললে ফারুক আহমদ সুনির্দিষ্ট নাম জানার চেষ্টা করে। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে প্রতিবেদক নিজেই কোন নাম জানেননা বলে তাকে অবহিত করলে ফারুক আহমদ বলে,সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকা কেউ পড়েনা। আমার বিরুদ্ধে এগুলো নিতাই মেম্বার ও অরুন মেম্বারগং বলেছে। মালাউনের বাচ্চারা কিভাবে গ্রামে থাকে আমি তা দেখে নেবো। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ হাসাউড়া-বনগাও বিওপির ক্যাম্প ইনচার্জ হাবিলদার মোঃ ইব্রাহিম বলেন,ঘটনার দিন আমরা টহলে ব্যাস্ত ছিলাম। প্রতারক ফারুক মদের বোতল দিয়ে সংখ্যালঘু ব্যাবসায়ীকে ধরিয়ে দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো। বিজিবির নামে চাঁদাবাজী করার কোন অধিকার কেউ তাকে দেয়নি। সংখ্যালঘু ব্যাবসায়ী পিতা-পুত্রের স্বাক্ষর নেয়া স্টাম্প উদ্ধারের জন্য তাকে আমরা খুজে বেড়াচ্ছি। আমরা আমাদের সীমান্ত এলাকায় কাউকেই চাঁদাবাজী সন্ত্রাস করতে দেবোনা। জেলা যুবলীগ আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল রঙ্গারচর ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন,কেউ যদি যুবলীগের নামে চাঁদাবাজী সন্ত্রাস করে বেড়ায় তাহলে সে যেই হউকনা কেন তাকে আইনের হাতে তুলে দিন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com