1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি, বাড়ছে তেলের দাম সিলেটে পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ আটক স্বামী জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী

সাংবাদিক পীর হাবিব মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন

  • Update Time : শনিবার, ১২ মার্চ, ২০২২
  • ২৭৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার
বরেণ্য সাংবাদিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের স্মরণে নাগরিক শোক সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন তিনি। বাংলাদেশকে বাংলাদেশের পথে চালিত করার জন্য পথে পথে ঘুরেছেন পীর হাবিব। জাতীয় জীবনে এবং ঢাকার বাইরে সুনামগঞ্জকে পরিচিত করেছিলেন এই সাহসী সাংবাদিক।
শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত’এর সভাপতিত্বে এবং সাজ্জাদুর রহমান সাজু, মাসুম হেলাল ও জুবের আহমদ অপুর সঞ্চালনায় নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরত্তোম, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, জাপা মহাসচিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, একেএম শামীম ওসমান এমপি, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, প্রয়াত পীর হাবিবের ছোট ভাই পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, জ্যেষ্ট সাংবাদিক প্রণব সাহা, সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, প্রয়াত পীর হাবিবের বড় ভাই মতিউর রহমান পীর, ছেলে আহনাফ ফাহমিন অন্তর, মেয়ে রাইসানা চন্দ্রস্মীতা প্রমুখ।
এর আগে বেলা আড়াইটায় সুনামগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাটমুখী সড়কে শাফলা চত্বরে পীর হাবিব স্মরণি’র ফলক উন্মোচন করেন পরিকল্পনা এমএ মান্নান এমপি, কাদের সিদ্দিকী বীরত্তোম ও পৌর মেয়র নাদের বখ্তসহ বিশিষ্টজনেরা।
স্বাগত বক্তব্যে নাগরিক শোকসভা কমিটির সভাপতি সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তিনি বিশাল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। আজ তাঁর স্মরণ সভায় হাজির হয়েছেন দেশের আলোকিত ব্যক্তিগণ। সামনে আপনারা যারা আছেন তাঁদের অভিবাদন। আপনারা প্রাণ খুলে দোয়া করুন আল্লাহ যেনো তাঁকে বেহেশতে নসিব করেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (বিপিএম) বলেন, উনার লেখা যিনি একবার পড়েছেন ভুলতে পারেন না। সুনামগঞ্জের চাইতেও বেশী পরিচিত ছিলেন পীর হাবিবুর রহমান। অনেক সময় এলাকার বিখ্যাত মানুষের নামে এলাকা পরিচিতি পায়, তিনি ছিলেন তেমনই একজন। উনার স্বপ্নের সুনামগঞ্জ এগিয়ে যাক।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই পীর হাবিবুর রহমানের লেখা পড়েছি। মুক্তিযুদ্ধ , স্বাধীনতা সম্পর্কিত নানা বিষয় তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে। সাহসী ছিলেন, সরকারি কর্মকা-ের সমালোচনা করে লিখতেও তিনি দ্বিধা করেননি। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে পীর হারিবুর রহমান আর নেই। আর কেউ আমাকে জামাই ভাই বলে ডাকবে না। তিনি জল জোছনার সুনামগঞ্জ শহরকে বিশ্বে পরিচিত করে দিয়েছেন।
দেশের কৃতি ফুটবলার কায়সার হামিদ বললেন, আমরা সদা হাস্যজ্জ্বল ব্যক্তিকে হারিয়েছি। যেখানেই দেখতেন জড়িয়ে ধরতেন। উনি লেখায় দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতেন। তাঁকে হারানো আমাদের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
নারায়নগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, সত্যই সুন্দর, সুন্দরই সত্য। প্রখ্যাত সাংবাদিক, টকশোর কঠোর বক্তা পীর হাবিব। তাঁলে স্মরণ করার জন্য এসেছেন সমাজের সকল কাতারের অগণিত মানুষ। আমরা যাদের সম্মান করি তারা তাঁকে স্মরণ করার জন্য এসেছেন। পীরভাই একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। অনেকেই রাজনীতি করেন কিন্তু সত্য কথা বলেন না। আমিও যে বলি তা না। তবে বলার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, আমি চলে গেলে ক্ষতি নাই। কিন্তু পীর ভাইয়ের মতো মানুষরা চলে গেলে সমাজের অনেক ক্ষতি হবে। তাঁর লেখায় মানুষ উজ্জীবিত হতো, আমিও সাহস পেতাম। মাঝে মাঝে তাঁর লেখা পড়ে ফোন দিতাম এই লাইনটা লিখলেন না- তিনি বলতেন আগামীতে লিখব। উনি আমার থেকে হাজার গুণ সাহসী মানুষ ছিলেন। আমি যা বলতে পারতাম না উনি তা সাহস করে লিখতেন। এই সাহস করে লিখা মানুষটা শুধু সুনামগঞ্জের না, সারা পৃথিবীর মানুষের। আমার মনে হয় আরো কিছুদিন উনার থাকার দরকার ছিলো। কারণ সামনে কঠিন সময়-কারণ বাংলাদেশের মানচিত্রের উপর এখন শকুন ঘুরছে। এরা পীর হাবীর ভাইয়ের মানচিত্রে থাবা দিতে চায়, তারা পেছনের দরজা ািদয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়-জাতির পিতার কন্যাকে সরিয়ে।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষণিকের জন্য পরীক্ষা দিকে পৃথিবীতে এসেছি। মৃত্যুর পর বুঝা যায় কে কতটুকু সফল হয়েছে। বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করে হাবীব ভাইয়ের জীবন সার্থক। উনাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ হাজির হয়েছেন। তাঁকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করবেন। তিনি সাধারণ মানুষের কথা আগুন লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আমার থেকে হাজার গুণ ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর আরো অনেকদিন পৃথিবীতে থাকার কথা ছিলো। কারণ তিনি সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলতে পারতেন। মহান আল্লাহ অবশ্যই হাবীব ভাইকে জান্নাতবাসী করবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ট কন্ঠস্বর ছিলেন পীর হাবিব। সুনামগঞ্জের কেউ ঢাকায় গিয়ে বিপদে পড়লে পীর হাবিব তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন আর কাউকে আমরা পাবো কি না আমরা জানি না। সুনামগঞ্জের মানুষও তাঁকে ভালোবাসত।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন বলেন, ২০০৪ সালে হাবীর ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়। আমার বাবা তখন হাসপাতালে। একদিন হাবীব ভাই তাকে দেখতে এলে বাবা বললেন, ‘ও একদিন বড় সাংবাদিক হবে। তোমার উপকার ছাড়া ক্ষতি করবে না।’ উনি সব সময় উনার মতপার্থক্য পাশ কাটিয়ে আমাকে পথ দেখিয়েছেন। জল জোছনার সুনামগঞ্জে তার মতো আরো অনেক সাংবাদিক আছেন। তারা একটু সহযোগিতা পেলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারবেন। সমাবেশে উপস্থিতিই প্রমাণ করে মানুষ তাঁেক কতো ভালোবাসতো।
সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, আমরা একজন নক্ষত্রকে হারিয়েছি। এই ক্ষতি পূরণ হবার নয়। আজ রাজনীতির সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে মানুষ তাঁকে স্মরণ করছেন, এটা তাঁরই জন্য।
রাকসু’র প্রাক্তন ভিপি রাগিব আহসান মুন্না বলেন, পীর হাবিবুর রহমান একটি নাম যাঁর সাথে সম্মান জড়িয়ে আছে। তাঁকে সম্মান জানাতে এসে আমি নিজেকে সম্মানীত মনে করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন সংগ্রামে সে সামনের কাতারে ছিলো। দুর্বত্তরা তাঁর লেখনিকে ভয় পেত।
তিনি বলেন, পীর হাবিব মানবিক মানুষ ছিলো। সে বলতো, ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।’ পীর হাবিব তোমার দেখিয়ে দেয়া পথে আমরা অবিচল থাকবো।
সুনামগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, পীর হাবিবুর রহমানের লেখনিতে আমরা উজ্জীবিত হতাম। সুনামগঞ্জের মানুষের নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে আফালের সাথে সংগ্রামী জীবন। পীর হাবিবও সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু সংগ্রামের ফসল উঠার আগেই তিনি চলে গেছেন। তিনি মুজিব আদর্শের পক্ষে লিখতেন। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ তথা বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিলো।
জাপা মহাসচিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ২০০৯ সালে পীর হাবিবের সাথে আমার পরিচয়। একুশে টিভিতে তিনি টকশো উপস্থাপনা করতেন তখন। তবে তার লেখার সাথে পরিচয় আরো আগে থেকে। তার লেখা আমি নিয়মিত পড়তাম। বহু বক্তৃতায় তার লেখা কোট করেছি। কলম যোদ্ধা হিসেবে তিনি সকল স্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতেন। সারাজীবন তাঁর কথা মনে রাখবো।
পীর হাবিবুর রহমানের ছেলে ব্যরিস্টার আহনাফ ফাহমিন অন্তর বলেন, আব্বাকে এতো মানুষ ভালোবাসতো আমি জানতাম না। তিনি সুনামগঞ্জকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করেছেন। আমাকে আপনার অন্তরে রাখবেন। আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। তাঁর কোন কথায় অথবা লেখায় কেউ কষ্ট পেলে আমার পরিবারের কাছ থেকে ক্ষমা চাইছি। এখানে আসার জন্য আমার পরিবারের কাছ থেকে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
পীর হাবিবুর রহমানের বড় ভাই অ্যাড. মতিউর রহমান পীর বলেন, হাবিব এই শহরের ধুলো মাটি মেখে বড় হয়েছে। সরকারি জুবিলীর এই মাঠে বসন্ত উৎসব করেছে। তরুণদের সুকুমারবৃত্তির বিকাশে কাজ করেছে। স্কাউটিং করেছে। সাংবাদিকতা করেছে সাহসীকতার সাথে।
পীর হাবিবুর রহমানের মেয়ে চন্দ্রস্মিতা বলেন, আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী। আব্বার সাথে সকল স্মৃতি আমার খুশি ও মজার। উনি চেয়েছিলেন আমি সাংবাদিক হই। তিনি প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে আমার সাথে আছেন। আমার বাবার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, হাবীবকে ভালোবেসে আজ এখানে এসেছি। সে সাহসী ছিলো। আমাদের অবহেলিত সুনামগঞ্জকে জাতির কাছে তুলে ধরেছে।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com