জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
সুনামগঞ্জ-সিলেট যাতায়াতে সড়কের উপর পৌর শহরের ওয়েজখালী বাজার গড়ে উঠায় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে নাকাল হচ্ছেন মানুষ। সড়কের উপর গড়ে উঠা বাজার উচ্ছেদ করে অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ওয়েজখালী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে প্রায় ২০ বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে বাজার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি না থাকায় পর্যায়ক্রমে দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বিশাল বাজার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। গত পাঁচ বছর আগে যানজট নিরসনে সড়কের পূর্বদিকে পৌরসভার উদ্যোগে মাছ বাজারের জন্য শেইড নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই শেইড সড়কের একটু দূরে নির্মাণ হওয়ায় এবং ক্রেতাদের আগমন কমে যাওয়ার ধারণায় কোনো ব্যবসায়ী যেতে রাজি হচ্ছেন না।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানান, যেখানে মাছ বাজারের শেইড নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে, সেখানে অনেক দোকান স্থাপন করা যাবে। সড়কের উপরে যারা ব্যবসা করছেন তারা সরে গেলে যানজট নিরসন হবে।
পথচারী শাহজাহান মিয়া বলেন, সড়কের দুইপাশে মাছের দোকান, সবজি ও পানের দোকান, চায়ের দোকানসহ হরেক রকম মালামালের দোকান রয়েছে। এই দোকান স্থাপনের কারণে বিশাল আকারের সড়ক খুব সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এই কারণে সড়কে মানুষ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
অপর পথচারী জনি মিয়া বলেন, ওয়েজখালী পয়েন্টে যেখানে সেখানে দোকান সাজিয়ে বসায় মানুষ ও গাড়ি চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দুর্ঘটনাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। পয়েন্টের সকল দোকানপাট উচ্ছেদ করে অন্যত্র স্থানান্তর করা জরুরি প্রয়োজন।
সিএনজি চালক মোরশেদ মিয়া বলেন, ওয়েজখালী আসলেই যানজটে পড়তে হয় আমাদের। সড়কের দুই পাশে স্থাপন করা হয়েছে শত শত অবৈধ দোকানপাট। এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করা জরুরি।
অপর চালক সহিদ মিয়া বলেন, ওয়েজখালীর মেইন পয়েন্টে এখন সব সময় যানজট লেগেই থাকে। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযান হয়, কিন্তু তারপরও আগের জায়গায় ব্যবসায়ীরা চলে আসেন।
কলেজ শিক্ষার্থী সুজন মিয়া বলেন, আমরা কলেজে আসা-যাওয়ার পথে মাছের দোকানের পানি গায়ে ছিটকে পড়ে। আমরা কিছু বলতে পারি না। সড়ক থেকে বাজার সরিয়ে নেওয়ার দাবি আমাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, এই বাজারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন কর্মচারীর বসতভিটা ও দোকানঘর রয়েছে। এই লোকের দেখা দেখি অনেকে দোকানপাট গড়ে তোলতে সাহস পেয়েছেন। যারা অবৈধ জায়গায় সড়কের উপর দোকানপাট গড়ে তোলেছে, এক সাথে সবাইকে তোলে দিলে কোনো ব্যবসায়ী থাকবে না বলে জানান তিনি। ওয়েজখালীতে কঠোরভাবে উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় এই সমস্যা দিনে দিনে বাড়ছে।
সুনামগঞ্জ পৌর পরিষদের প্যানেল মেয়র আহমদ নুর বলেন, আমাদের পৌরসভার অর্থায়নে গত ৫ বছর আগে সড়কের কাছাকাছি জায়গায় মাছ বাজারের জন্য শেইড নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এই শেইডে কোনো ব্যবসায়ী যেতে রাজি নন। তারা মনে করেন এই শেইডে ক্রেতারা যাবেন না। এই শেইডে ও আশপাশে প্রায় দুইশত ব্যবসায়ী বসে বেচাকেনা করতে পারবেন। তখন সড়ক পরিষ্কার হবে এবং যানজট কমে আসবে।
Leave a Reply