1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে দুদক পরিচালক বেলাল হোসেন দুর্নীতি প্রমাণ হলেই ব্যবস্থা,বাঁধের কাজ যেখানে হয়েছে সেখানেই ফসল টিকেছে,

  • Update Time : শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭
  • ২৭৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি-
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেছেন,‘যে হাওরে পাউবো, পিআইসি এবং ঠিকাদার আন্তরিক ছিলেন এবং তারা কৃষকদের সংগঠিত করে বাঁধের কাজে যুক্ত করতে পেরেছেন, সেটিই রক্ষা হয়েছে।’ তিনি বলেছেন,‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলে দুর্নীতি আড়াল করা নয়, বাঁধের কাজ যেখানে হয়েছে সেখানেই ফসল টিকেছে।’ যাদের বিরুদ্ধে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ বেলাল হোসেন দাবি করেছেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সমন্বিত উদ্যোগ না হলে ভবিষ্যতেও বাঁধ রক্ষা কাজ সফল হবে না।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হালির হাওরের কোপা বাঁধ, নয়া বারুঙ্কা বাঁধ, শনির হাওরের নান্টু খালি বাঁধ পরিদর্শন করে এসে দুদক’র পরিচালক এমন মন্তব্য করেন।
সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বৃহস্পতিবার দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যদের একটি তদন্ত দল ঢাকা থেকে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের কর্মকর্তাসহ ৮ জন কর্মকর্তা হাওরাঞ্চলে ঘুরেছেন।
দুদক’র পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন,‘জামালগঞ্জের ডুবে যাওয়া হালির হাওর এবং তাহিরপুরের শনির হাওর ঘুরে মনে হয়েছে- পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে লোকবল রয়েছে, তা দিয়ে এতো বড় হাওর পর্যবেক্ষণ করাই কঠিন। যেমন হালির হাওরের বাঁধ রয়েছে ৭২ কিলোমিটার এবং শনির হাওরের বাঁধ রয়েছে ৮৭ কিলোমিটার, সেখানে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেখভাল করছেন। এটি কীভাবে সম্ভব। এটি খুবই দুরূহ ব্যাপার। যেমন আমরা ৮ জন সকাল থেকে ৩ টা পর্যন্ত ঘুরলাম, আমরা দুটি হাওরেই বাঁধ দেখা শেষ করতে পারিনি।’
তিনি বলেন,‘সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে আরো বেশি নজরদারী প্রয়োজন। বাঁধ রক্ষাণাবেক্ষণেও সমন্বিত তদারকির প্রয়োজন। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে এখানে যুক্ত করতে হবে।’ সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আমি কেবল একটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নাম বলছি না, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে।’
তিনি বলেন,‘আমরা যখন ঘুরে দেখেছি, বাঁধের কাছাকাছি এলাকার কৃষকদের বক্তব্যও রেকর্ড করেছি। তারা কেউ বলেছেন, বাঁধ ওভার ফ্লো হয়েছে, কেউ কেউ বলেছেন বাঁধের কাজই হয়নি। তবে এতো বড় হাওর, এখন বাঁধের উপরও পানি, কেউ দেখাতে পারছেন না, কোথায় কাজ হয়েছে, কোথায় হয়নি। এই অবস্থায় পানি সরে যাবার পর আবার কথা বলতে হবে স্থানীয়দের সঙ্গে।’
তিনি বলেন,‘আমাদের পর্যবেক্ষণে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, যেখানে পাউবো, ঠিকাদার, পিআইসি এবং স্থানীয় কৃষক আন্তরিক ছিলেন, সেখানে বাঁধ রক্ষা হয়েছে। যেখানে এই কাজগুলোর অভাব ছিল, সেখানকার ক্ষতি বেশি হয়েছে।’
হাওরের বাঁধ পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটির সদস্য দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. আব্দুর রহিম, সহকারি পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি, সিলেট বিভাগীয় পরিচালক শিরিণ পারভিন, উপ-পরিচালক রেভা হালদার, উপ-সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার বিশ্বাস ছিলেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাকিল আজমদ এবং সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। সুত্র- সুনামগঞ্জের খবর

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com