1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার

সুনামগঞ্জে সালিশের রায় না মানায় চার মাস ধরে একঘরে এক পরিবার

  • Update Time : বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
  • ৩৬১ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সালিশের রায় না মানায় এক পরিবারকে চারমাস ধরে একঘরে করে রেখেছে মান্নারগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার এলাকাবাসী।

একঘরে হওয়া পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, অনিল চন্দ্র দাস ও তার ছোট ভাই নিধু রঞ্জন দাসের মধ্যে জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। চারমাস আগে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাদের বাড়িতে পাড়ার লোকজন সালিসে বসেন। সালিস চলাকালে অনিল ও নিধুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারি তৈরি হয়, এতে নিধু আহত হন। পরবর্তীতে মারামারির ঘটনা নিয়ে আবার বৈঠকে বসেন পূর্ব পাড়ার লোকজন। সালিশ বৈঠকে অনিল দাসের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অনিক দাস তার চাচা নিধু দাসকে মাথায় আঘাত করেছেন এই অভিযোগে হিন্দু শাস্ত্রমতে তার দেহ শুদ্ধির জন্য প্রাশ্চিত্ত্ব করে মাথা ন্যাড়া করার রায় দেওয়া হয়। মাথা ন্যাড়া করার এ রায় না মানায় চার মাস ধরে তাদের এক ঘরে করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

অনিল চন্দ্র দাশ বলেন, তার ছেলে অনিক দাস এবার দশম শ্রেণিতে পড়ে। আপন চাচাকে মারধর করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এ জন্য তার পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি গ্রাম্য সালিসে আরেকটি রায় ছিল বড়দের গায়ে হাত তুলায় শাস্ত্র অনুযায়ী ‘দেহ শুদ্ধির’ জন্য অনিকের মাথা ন্যাড়া করতে হবে। কিন্তু এটি না মানায় অনিকের পরিবারকে চারমাস ধরে ‘একঘরে’ রাখা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের মেলামেশা কিংবা চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আছে। একইভাবে তারাও গ্রামের অন্য কারো সঙ্গে মিশতে পারছেন না। অন্য কেউ তাদের বাড়িতে যেতে চাইলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের মাঠে গরু চড়াতেও নিষেধ রয়েছে।

এ বিষয়ে অনিকের বাবা অনিল চন্দ্র দাস দোয়ারাবাজার থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অনিল চন্দ্র দাসের স্ত্রী রত্না রানী দাস জানান, আমরা জরিমানার টাকা নিয়ে পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন জানাই। ছেলে যেহেতু স্কুলে পড়ে তাই তার মাথা ন্যাড়া করার রায়টি যেন বাদ দেওয়া হয়। এর বদলে বাবা হিসেবে তিনি ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন। কিন্তু এটি পঞ্চায়েত না মেনে তাদের একঘরে রাখার সিদ্ধান্ত দেন। অনিকের মা আরও বলেন, অনিক তার চাচাকে মারেনি। মাথা ন্যাড়া করার রায় শুনেই অনিক ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং জানায় তার মাথা ন্যাড়া করলে সে আত্মহত্যা করবে। এরপর আমরা গ্রামের মুরব্বিদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তিনি আরো বলেন, এরপর তিনি গ্রামের অন্য পাড়ার লোকদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের পাড়ার মুরব্বিরা কেউ কোনো কথা শুনছেন না। এখন কেউ তাদের সঙ্গে চলাফেরা করে না। তাদের বাড়ির কোনো অনুষ্ঠানে অন্যরা আসে না। তিনি আরও জানান গত ২৪ জানুয়ারি তার বাড়িতে তাদের গুরু গুসাই এসেছিলেন। এ জন্য গ্রামের অন্যদের প্রসাদের জন্য তিনি নিমন্ত্রণ করেন। গ্রামের অন্য পাড়ার কিছু লোকজন তার বাড়িতে আসতে চাইলে পথে বাধা দেওয়া হয়। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার স্বামী।

অনিল দাস ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সালিশে নেতৃত্ব দিয়েছেন পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা রবীন্দ্র দাস, ধিরু দাস, ভূপেন্দ্র দাস, বকুল দাস, পুতুল দাস, দেবল দাস, রনজিৎ দাস চিনু দাস, বিলম্ব দাসসহ আরো অনেকে। সালিসে ৪নং মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দীপক দাসও উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামের পশ্চিম পাড়ার প্রদীপ দাস জানান, সালিশেই অনিকের মাথা ন্যাড়া করার রায় দেওয়া হয়। সালিশকারীরা কোথাও ফোন করে একজন পণ্ডিতের কাছ থেকে গুরুজনদের আঘাত করার শাস্তি হিসেবে এই মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসেন। কিন্তু অনিকের পরিবার সেটি না মানায় তাদের একঘরে করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। আমাদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে মেলামেশা না করতে।

গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নিরঞ্জন দাস জানান, অনিলের বাড়িতে গুরুদেব আসার পর তাদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। তারা কয়েকজন ওই বাড়িতে যেতে চাইলে পথে ওই পাড়ার কিছু লোক তাদের বাধা দেয়। এর সময় তাদের সঙ্গে লাঠিসোটাও ছিলো বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সালিশকারী অবনি মোহন দাস ওরফে পাখি দাস মাথা ন্যাড়া করার রায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সেটা অনিলই (ছেলের বাবা) কোন পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছে। যেহেতু তার ছেলে অপরাধ করেছেন তাই তার মাথা ন্যাড়া করলে ছেলের দেহশুদ্ধি হবে। এটা শাস্ত্রের কথা, আমাদের না।’ একঘরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নয়, অনিলই পঞ্চায়েতের সঙ্গে থাকতে চায় না। সে যখন শাস্ত্র মানবে না তখন আমরা বলেছি, তুমি তোমার মতো চলো, আমরা আমাদের মতো চলব।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক দাস জানান, এক ঘরে করে রাখা বা মাথা ন্যাড়া করার বিষয়টি আমি জানিনা। তবে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর আমরা অনিলের পরিবারকে নিয়ে বসতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের ডাকে আসেনি।

মান্নারগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু হেনা আজিজ বলেন, এক ঘরে করে রাখার বিষয়টি অমানবিক ও আইন বিরুদ্ধ কাজ। এবিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। তারপরও তিনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন।

দোয়ারাবাজার থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অনিলের অভিযোগ ছিল অন্য পাড়ার লোকদের তাদের বাড়িতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি সরেজমিনে গিয়ে সেটা দেখে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসা করার জন্য বলে এসেছিলাম। এ জন্য উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক পক্ষ সেটিতে যায়নি বলে শুনেছি। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী সাতদিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেব। যদি সেটিও না হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com