জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক:
সুনামগঞ্জে স্কুলছাত্র অনিক চন্দ্র ব্রহ্মের খুনের রহস্য ৬ দিনেও উদঘাটন হয়নি। পুলিশের দায়িত্বশীলরা বলছেন, খুনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় আন্তরিক তারা, তবে ঘটনার আলামত একেবারে কম থাকায় রহস্য উদঘাটনে বিলম্ব হচ্ছে। স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলছেন, নেশাগ্রস্ত তরুণ বা কিশোর অপরাধ চক্রের ঘটনা এটি কী-না, সেটিও খতিয়ে দেখতে পারে পুলিশ।
গত রবিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে অনিকের গলায় রশি প্যাঁচানো রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অনিক সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভগের ছাত্র এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। অনিকের বাবা কয়লা ব্যবসায়ী প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য পৌর শহরের পশ্চিম নতুনপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি জেলার তাহিরপুর উপজেলার তেলিগাঁও গ্রামে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনিকের ঘনিষ্ট বন্ধুদের মধ্যে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ নতুনপাড়া, হাসননগর, জামতলা ও আরপিননগর, তেঘরিয়ার কিশোররাও ছিল। যেখানে অনিকের লাশ পাওয়া গেছে সেই স্থানে যাওয়ার পথ নতুনপাড়ার ভেতর দিয়েও আছে, কালেক্টরেটের গেটসহ অন্য পথেও এখানে আসা যাওয়া করা যায়।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরা গোলাম সাবেরীন সাবু বললেন, নির্মম এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন মহল্লার অভিভাবকরা। ছেলেরা ঘর থেকে বের হলে কার সঙ্গে মিশে, সব সময় খেয়াল করা যায় না জানিয়ে অনেক অভিভাবকই এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন বলে জানান তিনি। সাবু বললেন, শিক্ষার্থী অনিক মেধাবী ছিল, আবার স্মার্টও ছিল, সে একটি দামি মোটর সাইকেলও চালাতো। ঘটনার সঙ্গে কিশোর অপরাধ চক্র বা টিকটক পার্টির কেউ যুক্ত আছে কী-না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মহল্লার তরুণ সংগঠক পারভেজ আহমদ বললেন, সকল দায়িত্বশীল মহলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ঘটনার সঙ্গে নেশাগ্রস্ত তরুণ-কিশোর গ্যাং বা টিকটক পার্টি যুক্ত থাকতে পারে।
সচেতন নাগরিক কমিটি’র (সনাক) সুনামগঞ্জের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বললেন, মধ্যশহরে দিনের বেলায় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। দেশের অন্য অঞ্চলে এসব ঘটনায় আমরা দেখেছি কিশোর অপরাধ গ্যাংয়ের যুক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, সুনামগঞ্জেও এমনটা হয়েছে কী না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অনিক চন্দ্র ব্রহ্মের বাবা প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম বললেন, শুক্রবার সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন, পূর্ব নতুনপাড়ার মৃত অনিল দাশের ছেলে অমিত দাশকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন শুনেছি। আমাদের সঙ্গে যেহেতু কারো শত্রুতা ছিল না, আমরা কারো নাম বলতে পারছি না।
এই খুনের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর অঞ্জন সরকার বললেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য অনেকের সঙ্গেই কথা বলছি, কাউকে কাউকে থানায় এনেও জিজ্ঞাসাবাদ করছি। কাউকে এ ঘটনায় আটক করা হয় নি। ঘটনার পর আলামত কম পাওয়ায় রহস্য উদঘাটনে বিলম্ব হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, ঘটনাটি নিভিরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মহল্লাবাসী বা আশপাশের বাসিন্দারাও কিছু ক্লো জানিয়ে পুলিশকে সহায়তা করলে রহস্য উদঘাটন সহজ হতো।
Leave a Reply