সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের অনুসন্ধান ডেস্কের সাইন বোর্ড সাঁটানো হয়েছে প্রায় ১ বছর হলো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ভুল জায়গায় অনুসন্ধান ডেস্কের ব্যবস্থা করায় চালু করা যাচ্ছে না ডেস্কটি। এতে হাসপাতালে আসা সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনি গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন (৩৫)। কয়েকদিন ধরে পায়ের হাঁটুতে ব্যথা। এজন্য শনিবার ডাক্তার দেখাতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসেন তিনি। জরুরী বিভাগে দেখানোর পর এক্সরে করাতে ২০ নম্বর কক্ষে পাঠান কর্তব্যরত ডাক্তার। জরুরী বিভাগ থেকে বের হয়ে টুকেন হাতে নিয়ে খোঁজতে থাকেন ২০ নম্বর কক্ষ। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেও কাঙ্খিত কক্ষের সন্ধান পাচ্ছিলেন না তিনি। শেষে এ প্রতিবেদকের সাহায্য নিয়ে ২০ নম্বর কক্ষের এক্সরে রুমের সন্ধান পান তিনি।
রুহুল আমিন বলেন, আমার পায়ের ব্যথা। হাঁটতে পারি না। এজন্য ডাক্তার দেখাতে সুনামগঞ্জ এসেছি। জরুরী বিভাগের ডাক্তারকে দেখানোর পর ২০ নম্বর কক্ষ থেকে এক্সরে করানোর জন্য বলেন তিনি। ২০ নম্বর কক্ষ খুঁজে বের করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে আমাকে।
শুধু রুহুল আমিন নয়, তার মতো অনেক সেবাগ্রহীতাকে হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আট তলা ভবনের নিচ তলায় অনুসন্ধান ডেস্ক থাকলেও এর কার্যকারিতা না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা। তাই দ্রুত এই অনুসন্ধান ডেস্ক চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সেবা গ্রহীতা মো. ফয়েজ মিয়া বললেন, ১৫ দিন আগে মটর সাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হই। এখন বুকে ব্যথা। কাউন্টার থেকে ৫ টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছি। এখন ডাক্তারের রুম খোঁজে পাচ্ছি না।
সুমন মিয়া বললেন, আমার ১৪ মাস বয়সী ছেলের ঠান্ডা লেগেছে। হাসপাতালে তাকে নিয়ে ভর্তি আছি কয়েকদিন হলো। এতো বড় হাসপাতালে এসে বোকা বনে যেতে হয়। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যেতে ঘুরতে হয়। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়। অনুসন্ধান ডেস্ক চালু থাকলে হাসপাতালের সেবা পাওয়া আরও সহজ হতো আমাদের জন্য।
সুনামগঞ্জ জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, হাসপাতালে সব অদ্ভুত নিয়ম। দেয়ালে লেখা হয়েছে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও করা যাবে না। কেনো এই নিয়ম করা হয়েছে সেটা আমরা বুঝি। এখানে অনুসন্ধান ডেস্ক রয়েছে, তবে এর কার্যকারিতা নেই। লিফট প্রায়ই অচল থাকে, মূল দরজায় প্রতিনিয়ত বিকট শব্দে বাঁশি বাজিয়ে রোগীদের স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভুল জায়গায় অনুসন্ধান ডেস্ক বসানোর ব্যবস্থা করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ। এখন সেখান থেকে সরিয়ে সিঁড়ির নিচে নেয়া হবে ডেস্কটি। কারণ কলাপসিবল গেট হবে সামনে। আর এই গেটের পাশেই অনুসন্ধান ডেস্কটি স্থাপন করা হবে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ৭ ফুট লম্বা একটি কলাপসিবল গেট লাগবে নিচ তলার সিঁড়ির পাশে। গণপূর্ত অফিস তাদের মতো করে অনুসন্ধান ডেস্ক করেছে। আমি জানতাম না। পরে দেখার পর ডেস্কটি সামনে নিয়ে এসেছি। এখন বলেছি কলাপসিবল গেট লাগিয়ে ঠিক করে দেয়ার জন্য। তারা কাজ শেষ করে দিলে আমরা অনুসন্ধান ডেস্কের কাজ শুরু করতে পারবো।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মমিনুল হক বলেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ৮ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন করা হয়েছে। ভবনের ডিজাইনে যেখানে ছিলো সেখানে অনুসন্ধান ডেস্ক দেয়া হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে অনুসন্ধান ডেস্ক সরানো দরকার তাহলে সরাবো।
Leave a Reply