স্টাফ রিপোর্টার-
কৃষক আবু তালেব সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের অপসাধু গ্রামের বাসিন্দা।শ্রমিক সংকটের কারণে পাকাধান নিয়ে বেকায়দায় পড়েন খবর পেয়ে রানীগঞ্জ
উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কাঁচি হাতে নিয়ে ছুটে যান ধান কাটতে। একদিনে ৪০ শতাংশ জমির পাকা ধান কেটে দেন।
গত ৪ দিন ধরে এভাবে প্রতিদিন শ্রমিক সংকটে বেকায়দায় পড়া কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। আর এ কাজের সার্বক্ষণিক আছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ।
বৃহস্পতিবার মইয়ার হাওরে গন্ধবপুর গ্রামের এমদাদুল হকের এক একর জমির ধান কেটে দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ ২৪ জন।
এমদাদুল জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমনে পাকাধান নিয়ে যখন দিশেহারা তখন ছুটে যাই রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি একজন শিক্ষককে টিম লিডার বানিয়ে ২৪ জন শিক্ষার্থী দিয়ে আমার এক একর জমির ধান কেটে দেন। এতে আমি উপকৃত হই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মিয়া জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো ছাত্র শিক্ষক মিলে আনন্দের সহিত ধান কাটার কাজ করছি। তাই ধান কাটার কষ্ট অনুভব হচ্ছে না।
রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ জানান,করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিক তুলনামূলক কম আসায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকটে পাকাধান নিয়ে বিপাকে পড়েন। তাই আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মিলে গত ৪ দিন ধরে ধান কাটছি। ৪ দিনে সাড়ে তিন একর জমির ধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দিয়েছেন বলে জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান,রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে সত্যিকার অর্থে কাজ করছেন কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা তাদের কে সাধুবাদ জানাই।
Leave a Reply