বিশেষ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান বিদায়বেলা কাঁদলেন, কাঁদালেন মানুষজনকে। বিদায়ের শেষবেলায় ঝলছিল সবার চোখের পানি।
আজ মঙ্গলবার জগন্নাথপুর থানার ভবনের সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন
সারাদেশের সব থানার ওসি বদলির নির্দেশ প্রদানের পর বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আজ জগন্নাথপুর থানা থেকে বিদায় দেবেন ওসি এমন খবর গত কয়েকদিন ধরে শুনা যাচ্ছিল। একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে ওসির বিদায়ে সকাল থেকেই থানা ভবনের সামনে সর্বশ্রেণীর মানুষের ঢল নামে।
ছোট, বড় বিভিন্ন বয়সি মানুষ ফুল ছিটিয়ে অশ্রুভেজা নয়নে বিদায় জানান ওসিকে। এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমান উপস্থিত জনতার উদ্যেশ্যে বলেন, আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।
থানা ভবনের প্রাঙ্গণে কথা হয় চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম
বকুল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জালালেন, জগন্নাথপুর থানায় যোগদানের পর গত ২৩ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল খুবই ভালো। একজন মানবিক ওসি হিসেবে মিজানুর রহমান জগন্নাথপুরের সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ জনগনের বন্ধু, একথাটি মিজানুর রহমান প্রমাণ করে দিয়েছেন তাঁর সততা, উদারতা আর বলিষ্ঠ দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে।
শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন জানান, ওসি মিজানুর রহমান দায়িত্বপালনকালে জগন্নাথপুর থানা দালালমুক্ত ছিল। জনগনের সঙ্গে সরাসরি তিনি সম্পৃক্ত হয়ে পুলিশ-জনতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলেন। তাঁর বিদায়ে প্রতিদিন ১০-১২ টি করে সকলমহলে তাকে সংবর্ধিত করা হয়েছে। যা জগন্নাথপুরের ইতিহাসে এমন বিদায়ী সংবর্ধনা আর কখনও হয়নি।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় যোগদান করেন ওসি মিজানুর রহমান। যোগদানের পর থেকেই কমে যায় দালালদের দৌরাত্ম্য। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে উপজেলার প্রতিটি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায়, হাট-বাজার, মসজিদ ও মন্দিরে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভায় করেন। আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের এক ভ্যান চালক টাকার অভাবে তার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না এ খবর পেয়ে প্রবাসীর অনুদানে ওই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করে দেন ওসি। পৌরসভার বাদাউড়া এলাকার হতদরিদ্র এক মহিলার ঘর নির্মাণ, সংসারের খরচ যোগাতে ভবানীপুরের এক যুবককে কিনে দিয়েছেন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, পড়া-লেখার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে গন্ধর্বপুর গ্রামের তিন শিক্ষার্থীকে দিয়েছেন সেলাই মেশিন উপহার। এছাড়া কলকলিয়া ইউনিয়নের ঘুংঙ্গিরগাও গ্রামে সুদখোরের কবল থেকে এক অসহায় পরিবারের বসতবাড়ী উদ্ধার করেন। একইভাবে চিলাউড়া গ্রামের এক বৃদ্ধার বাড়িঘর দখলমুক্ত করে তাঁর থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন ওসি মিজানুর। তাছাড়া প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় অপরাধ কর্মকাণ্ড কমাতে পুরো পৌর এলাকাসহ উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজার ও সৈয়দপুর বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে প্রশংসিত হন তিনি।
জগন্নাথপুর থানার তথ্যমতে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০০টি মামলা হয়েছে এ থানায়। কিন্তু ওসি মিজানুর যোগদানের প্রথম বছরেই তা অর্ধেক অংশে কমিয়ে এনেছেন।এর মধ্যে মারামারির মামলার সংখ্যা ছিল বেশি। বড় ধরনের অপরাধ বিশেষ করে খুন, অপহরণ, চুরির মতো অপরাধও কমেছে। বিগত তিন বছরের তুলনায় এসব অপরাধ কমেছে ৫০ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথপুর থানার ওসিকে বদলি করে সুনামগঞ্জের শাল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আর শাল্লার ওসি আমিনুল ইসলামকে জগন্নাথপুর থানায় বদলি করা হয়।