1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

বিয়ে বাড়িতে প্রেমিকার হানা, লজ্জায় বাবার আত্মহত্যা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

বরযাত্রী কনের বাড়িতে যাওয়ার পর বরের বাড়িতে এসে হাজির হন দুই তরুণী। তাদের একজন নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। পরে ওই তরুণীর উপস্থিতির পর বিয়ে ভেঙে যায়। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়।

বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বেলা ৩টার দিকে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই তরুণী এসে উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার। তিনি নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। অন্যজন তার মামাতো বোন।

তরুণীর দাবি, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একসঙ্গে ছিলেন। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। তবে হেলাল মিয়া মোবাইল বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় তাদের বিয়ে হয়নি।

তরুণী জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং পূর্বের সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনা বিয়েবাড়িতে জানাজানি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়েটি আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরপক্ষ বাড়িতে ফিরে আসে।

স্থানীয়দের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ছেলে বিয়ে করতে কনের বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়িতে প্রেমিকার উপস্থিতি এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে পণ্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। এর জেরে রাত ১১টার দিকে নিজ বসতঘরের পূর্ব পাশে সাইদুল ইসলামের পুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।

পরে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হেলেনা স্বামীকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার লাশ উদ্ধার করে।

পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা দুই তরুণীকে হেফাজতে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র-যুগান্তর

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com