বিশেষ প্রতিনিধি::
জগন্নাথপুরের শিবগঞ্জ—বেগমপুর সড়ক সংস্কারের দাবীতে লংমার্চ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে “দক্ষিণ গণদাবী পরিষদ”র আয়োজনে উপজেলার কাতিয়া, পাইলগাও, কুবাজপুর, রমাপতিপুর, দোস্তপুর, ইছগাও, ঘোষগাও ও টিয়ারগাও গ্রামের
বিক্ষুব্ধ লোকজন উপজেলার স্থানীয় শিবগঞ্জ বাজার থেকে একটি বিশাল লংমার্চ শুরু করেন। লংমার্চটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে এসে সমবেত হয়। পরে সেখানে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ জগন্নাথপুর গণদাবী পরিষদের আহ্ববায়ক মাসুম আহমদের সভাপতিত্বে ও গণদাবী পরিষদের নেতা হাফিজ আখতারুজ্জামান রিয়াদের পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন মাওলানা দরছ উদ্দিন, শিবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল বাছিত সুমন, ফরহাদ মিয়া, কুবাজপুর হযরত ফাতিমা রাঃ একাডেমির পরিচালক হাফিজ আবু তাহের, কুবাজপুর গ্রামের সালিশী ব্যাক্তি মোঃ জেবুল মিয়া, ঘোষগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হোসেন, সহকারী শিক্ষক মোঃ জিকরুল আলম, মোঃ মিলন মিয়া, ইছগাও মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুজাহিদ খান, কুবাজপুর দক্ষিণপাড়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান, মোঃ সুহেল আহমদ, মোঃ খলিল চৌধুরী,মোঃ রিয়াজ মিয়া প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সংস্কার না করায় এই সড়কটি এখন সম্পূর্ণ অচল। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা-পানি জমে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলেরও কোনো উপায় থাকে না। আমরা অবিলম্বে এই নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করছি। অন্যথায়, আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
দক্ষিণ জগন্নাথপুর গণদাবী পরিষদের আহ্ববায়ক স্থানীয় কুবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুম আহমদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে সড়কে কোন কাজ করা হয়নি। মাঝে মধ্যে সংস্কার নামে নামমাত্র কাজ করে সরকারী অর্থ লুট করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জগন্নাথপুরের তিন ইউনিয়নের লাখো মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। বর্তমানে সড়কের দক্ষিণ অঞ্চলে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের ন্যায্য দাবী আদায়ে আমরা বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করেছি।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, গোতগাঁও, সোনাতলা, কদমতলা, মশাজান, কাতিয়া, অলৈতলী, আলাগদি; আশারকান্দি ইউনিয়নের কালনিচর, আটঘর, খালাইনজুড়া, মিলিক, বড়ফেচি, ছোট ফেচি এবং রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও, ইছগাঁও, কুবাজপুরসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এছাড়া এই সড়ক দিয়ে বেগমপুর হয়ে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলসহ ঢাকার সাথেও যোগাযোগ করেন উপজেলাবাসী। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে থমকে গেছে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা।
২০১৬ সালে সড়কের ১১ কিলোমিটার সংষ্কারের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও রাস্তার কিছু অংশে যৎসামান্য কাজ করে অর্থলুটের অভিযোগ ছিল তৎকালীন সরকারদলীয় প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে ২০২২ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হয় সড়কটি। সড়কজুড়ে ভাঙাচুরা, খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সড়ক সংস্কারের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু করেন সুনামগঞ্জের ঠিকাদার রেনু মিয়া। ২০২৫ সালের জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলে সময়বৃদ্ধি করে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেন। কিন্তু উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কাজ না করে কাজ ফেলে রাখেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে না করে ফেলা রাখা ও কাজের মেয়াদকাল শেষ হওয়ায় ঠিকাদার বাতিলের জন্য আমরা আবেদন করেছি। তিনি বলেন সিলেট বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত করণ ও শক্তিশালী করণ প্রকল্পে সড়কটি প্রস্তাব করা রয়েছে।