‘আঘাতপ্রাপ্ত’ জবাইকৃত গরুর মাংস করায় অপরাধে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের হাসপাতাল পয়েন্টের একটি কসাইখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা যায়, উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন থেকে আঘাতপ্রাপ্ত ও গুরুতর জখম একটি গরু জবাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল পয়েন্টের কসাইখানায় আনা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সেখানে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করে। ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী, অসুস্থ বা আঘাতপ্রাপ্ত কোনো পশু প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পূর্ব অনুমতি ও পরীক্ষা ছাড়া জবাই করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযান চলাকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কসাইখানায় উপস্থিত হয়ে গরু জবাইয়ের ভিডিও ফুটেজ সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করেন এবং জবাইকৃত পশুর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তিনি জানান, মাংসের মান আপাতদৃষ্টিতে যথাযথ রয়েছে এবং পশুটিকে জীবিত অবস্থাতেই জবাই করা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ও পরীক্ষা ব্যতীত বেআইনিভাবে জখমকৃত গরু জবাই করায় অপরাধে ‘মেসার্স ভাই ভাই গোস্তের দোকান’-কে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’-এর ২৪ ধারার আওতায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মহসীন উদ্দিন।একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য দোকান মালিককে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর উপজেলা সরকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং বাজারে মাংসের সঠিক মান বজায় রাখতে জনস্বার্থে এই ধরনের তদারকি ও মোবাইল কোর্টের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।