স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এক যু্বদল নেতা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা ভুক্তভোগী যুবকের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় হামলার শিকার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পাটলী ইউনিয়নের প্রভাকরপুর গ্রামের মৃত খিজির বক্স পীরের ছেলে দিলদার হোসেন রাসেল বক্স গতকাল শুক্রবার রাতে জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হবিবপুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া (২৪), শামীম আহমদ (২২) ও সাইদুল হকসহ (২৫) অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে বিবাদীরা পাটলী ইউনিয়নের জামরখল ব্রিজের ওপর মাদক সেবন করছিল। ওই সময় তাদের মাতলামি করতে দেখে দিলদার হোসেন রাসেল প্রকাশ্যে মাদক সেবনের বাধা নিষেধ ও প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক সেবীরা রাসেলকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে চলে যায় এবং পরবর্তীতে মুঠোফোনেও একাধিকবার হুমকি দিতে থাকে। এরই জেরে গত ৩ অক্টোবর শনিবার রাত ১০টার সময় দিলদার হোসেন রাসেল বক্স ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ওষুধ ক্রয়ের জন্য জগন্নাথপুর পৌরশহরের হাসপাতাল পয়েন্টে যান। সেখানে পৌঁছামাত্রই পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা বিবাদী উজ্জ্বল, শামীম ও সাইদুলসহ তাদের সহযোগীরা রাসেলকে মোটরবাইকসহ ঘেরাও করে গতি রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাসেলের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় তাকে আহত করে। মারধর চলাকালীন ১ নম্বর বিবাদী উজ্জ্বল মিয়া রাসেলের পকেটে থাকা নগদ ৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং ২ নম্বর বিবাদী শামীম আহমদ তাঁর হাত থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং এ-১৪ মডেলের স্মার্টফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাসেলের শোর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্ববায়ক দিলদার হোসেন রাসেল বক্স বলেন, এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি শুধু তাদের ব্রিজের ওপর বসে মাদক সেবন করতে নিষেধ করেছিলাম। এটাই আমার অপরাধ ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে শহরের হাসপাতাল পয়েন্টে ওত পেতে থেকে আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। আমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি আমার নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই চিহ্নিত মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
জগন্নাথপুর থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।