স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোরো জমিতে পানি সেচ ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্র ‘ছুলফি’র আঘাতে একজন নিহত এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (চন্ডি হেদায়েতপুর) গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষকের নাম মতিউর রহমান (৫০)। তিনি পীরেরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল বারির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে পীরেরগাঁও গ্রামের আরব আলীর ছেলে আলমগীরের সাথে একই গ্রামের আছির উল্লাহর ছেলে কাশেমের জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরই জেরে আজ মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন আলমগীরের পক্ষের কৃষক মতিউর রহমান প্রতিপক্ষের ছুলফির আঘাতে বুকে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মতিউরকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মুজিবুর (৩৮) ও আতাউর (৫০) নামের দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মতিউর রহমানকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা যান। আহতদের মধ্যে দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে একজনকে আটক করা হয়েছে।