জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে বড় করে প্রতিষ্ঠিত করতে জীবনের প্রায় ১০ বছর কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়লেও জীবনের শেষ সময়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন তাহমিনা বেগম (৬৫)।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ওই বাসা থেকে তার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি উপজেলার নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একা বসবাস করছিলেন।
বাসার মালিক আব্দুল বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনার বড় ভাই তাকে ওই বাসায় ভাড়া রাখেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানে যেতেন। তবে গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। রোববার সকালে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে খোঁজ নিয়ে তার মরদেহের বিষয়টি জানা যায়।
স্থানীয় ও নিকটাত্মীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী কদম আলী হাওলাদারকে হারান তাহমিনা। তখন তাঁর চার সন্তান ছিল। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। সেখানে তার ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে।
সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করা তাহমিনা জীবনের শেষ সময়ে বাবুগঞ্জের নতুন হাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল থেকে বাসাটির আশপাশে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথমে বাড়ির মালিক আব্দুল বারেক ধারণা করেছিলেন, পাশের কোনো কক্ষে ইঁদুর মারা যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রোববার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি তাহমিনার কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পরে তার বড় ভাই রমিজ উদ্দিনকে খবর দেওয়া হয়। তিনি বাসায় এসে কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রতিবেশী শাহানা বেগম জানান, তাহমিনা প্রায় তিন মাস আগে ওই বাসায় আসেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, তাহমিনা এর আগে কয়েকবার স্ট্রোক করেছিলেন। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করতেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে কাটাতেন।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের বড় ভাই সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনদের কেউ কেউ বাধা দিয়েছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র-ইত্তেফাক