1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা

তাহিরপুরে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের ১৬ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ

  • Update Time : বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭
  • ২২২ Time View

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলায় ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের ১৬ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠেছে। বরাদ্দ পাওয়া সব কয়টি বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ ও ক্ষেত্র বিশেষ হোয়াইট ওয়াস (চুনকাম) করেই বিল ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে নেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন উপজেলার দক্ষিণকূল, মেঞ্জারগাঁও, মাহমুদপুর, মানিকখিলা সহ একাধিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কোন কাজই হয়নি। চুনের মধ্যে পিরিটন মিশিয়ে নাম মাত্র ওয়াশ করা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকাংশ শিক্ষকদের দাবি, তারা সম্পূর্ণ কাজ করিয়েই টাকা উত্তোলন করছেন। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মিলে নামমাত্র কাজ করে শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়া হয়েছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকূল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুরশেদা বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ওয়ারিং ও চুনকাম করা হয়েছে।’ বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণের সময় বিদ্যুৎ লাইন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলীনূর মিয়ার সাথে কথা বলতে পারেন।
সাবেক সভাপতি আলীনূর মিয়া বলেন, ‘কাজ যে পরিমাণেই হোক আমরা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করেই করেছি।’
বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার আলম বলেন, আমার জানা মতে বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র চুনকাম করা হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের সময়ে ওয়ারিং এর কাজ করা ছিল।
বাদাঘাট ইউনিয়নের ইউনুছপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচম্যাপ এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে মেরামতের কোন কাজই হয় নি। চুনকাম হয়েছে, তাও নাম মাত্র।’
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তেলিগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম জানান, উত্তোলিত টাকা দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে সিঁড়ির কাজ করিয়েছেন।
বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু পাল বলেন, ‘সিঁড়িটি বিদ্যালয়ে আগেই ছিল, পুরাতন সিঁড়িটি মেরামত করতে হাজার দশেক টাকা লাগতে পারে।’
একই অবস্থা উপজেলার উক্তিয়ারগাঁও, রসুলপুর, বাঁশতলা, চানপুর, লোহাজুড়ি, মধুয়ারচর, লক্ষ্মীপুর, লাউড়েরগড়, মাহমুদপুর, পিরিজপুর, মেঞ্জারগাঁও ও মানিগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয় টাকা বরাদ্দ পেলেও যথাসময়ে কাজা না করিয়ে সবাই বসে থাকেন জুন মাসের অপেক্ষায়। চলতি বছর জুন মাসে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হঠাৎ বদলি হয়ে চলে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায়। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকগণ শত ভাগ কাজ করেছেন দাবি করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে বিলের সমূদয় টাকা নিয়ে যান।
তাহিরপুর উপজেলার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘বিল ভাউচার জমাকালীন সময় আমার বদলির কাগজপত্র চলে আসে, আমি ব্যস্ত থাকায় তদারকির সময় পাইনি।’
বর্তমান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস বলেন, ‘এগুলো দেখার দায়িত্ব আমার নয়, যিনি বিল দিয়ে গেছেন তার বিষয়।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com