1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

বর্ণমালার মুক্তির মিছিল

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৮৬৯ Time View

আব্দুল মতিন

শিমুল,পলাশের বনে লাল রঙের আগুন লাগা সৌন্দর্যে বারবার মনে পরে ৮ই ফাল্গুন; ২১শে ফেব্রুয়ারি।মাতৃভাষার জন্য সালাম,বরকত,রফিক, জব্বার,শফিউলদের বিরল আত্মত্যাগ।
মাতৃভাষা বাংলার শৃঙ্খল মুক্তির দিন,বেদনার নীল রঙের দুখিনি বর্ণমালার মুক্তির সূদীর্ঘ ইতিহাসের কথা।

ভাষাবিদ ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে,’গৌড়ি প্রাকৃত’ থেকে নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ করেছে। কেউকেউ উৎস হিসেবে চর্যাপদ কে চিহৃিত করেছেন যা বৌদ্ধ সহজিয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

৬৪০ খ্রিস্টাব্দে ভারত বর্ষে ইসলামপ্রচার শুরু হলে তুরস্ক, মিশর ,ইয়েমেন প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আসা প্রচারকগন বাংলা ভাষা শিখে ধর্মের সৌন্দর্য সবার সামনে তুলে ধরতেন। ১২০১সালে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি যখন ১৭জন ঘোড় সরয়ার নিয়ে লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা বিজয় করেন তখন থেকে মানুষের জীবনের সাথে জড়িত হলো বাংলা।

ড. দীনেশ চন্দ্রসেনের কথাটি স্মর্তব্য ,’মুসলমান আগমনের পুর্বে বঙ্গ ভাষা কোন কৃষক রমণীর ন্যায়দীনহীন বেশে পল্লী কুটিরে বাস করতেছিল’।
১৩৫২খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াছ শাহ যে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্টা করেছিলেন তা দীর্ঘ দু’শ বছরের অধিক কাল স্থায়ী ছিল।

এসময় বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক বিস্তার ঘটল।সপ্তদশ শতাব্দীর কবি ছিলেন আব্দুল হাকিম,সৈয়দ আলাওল,মুহম্মদ সগীর,সৈয়দ হামজা,শেখ ফয়জুল্লাহ,শেখ চান্দ, শাহ গরিবুল্লাহ প্রমুখ।

১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন পলাশীর ঘাতকতা বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্ত গেলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রায় দু’শ বছরের ছোবলে পড়ে দুখিনী বাংলা ভাষা।

দূর্বোধ্য সংস্কৃত বহুল বাংলায় সাহিত্য চর্চা ভাটা পড়ে। ১৯৪৭সালে দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে ভারত,পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ব্রিটিশরা তাদের ‘ভাগকর,শাষন কর’নীতির প্রয়োগ রেখে ভারত ছাড়ে।শুধু ধর্মের কারনে পাকিস্তানে পরে যায় তখনকার পুর্ব বাংলা,আজকের বাংলাদেশ।

১৯৪৭থেকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত শুধু দুখিনি মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্টার জন্য রক্তাক্ত সংঘাত করে,প্রাণ দিয়ে তাঁঁর সন্তানেরা পাকিস্তানি উর্দুর কবল থেকে বাংলাকে উদ্ধার করে।সেদিন থেকে ২১ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তির উৎস; যে চেতনার উৎস ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রচন্ড শক্তি,সাহস দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্টা করে।

১৯৯৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা কালিন জাতিসংঘের অঙ্গ সংঠন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারী কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঘোষণা দেয় যা ভাষার জন্য ন্যায্য সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বৈশ্বিক মর্যাদার ন্যায় সংগত স্বীকৃতি ।

চীনের নাগরিক সোকামলিন,নিউজিল্যান্ডের
জন মেকমুলান, যুক্তরাষ্ট্রের জেকির মেইয়ার,
কানাডার ড্যানিয়েল লালিন্ডে বাংলা ভাষা শিখে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির প্রশংসা যখন করেন তখন গর্বে বুক স্ফিত হয়ে উঠে।
অতল শ্রদ্ধা।ভাষা শহীদ ও ভাষা সৈনিকদের জন্য।

লেখক-অধ্যক্ষ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়
জগন্নাথপুর।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com