1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

আবারও বিস্ফোরণে কাঁপল সীতাকুণ্ড : নিহত ৬

  • Update Time : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩
  • ১৫৭ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক:

বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হতাহতের ৯ মাস না পেরোতেই আবারও বিস্ফোরণে কাঁপল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। এবার ঘটনাস্থল বিএম ডিপোর আধাকিলোমিটার দূরের সীমা অক্সিজেন লিমিটেড কারখানা। গতকাল শনিবার এই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ছয়জন। আহত ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বাড়িঘর ও অফিসের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, দেয়ালে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে। কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

গেছে, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল কেশবপুর গ্রামে অবস্থিত বিএম কনটেইনার ডিপোর আধাকিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সীমা অক্সিজেন কারখানায় সিলিন্ডার ফেটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার দূরের ঘর-বাড়ি-অফিসের দরজা-জানালা ও কাচ ভেঙে ছিটকে পড়েছে। ফাটল ধরেছে অসংখ্য স্থাপনার দেয়ালে।

এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি ভারী লোহার টুকরা গিয়ে এক কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকায় এক ব্যক্তির মাথায় পড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। দুর্ঘটনায় কারখানার ভেতরে থাকা সিলিন্ডার ভর্তি চারটি ট্রাক দুমড়েমুচড়ে গেছে। উড়ে গেছে কারখানার দুটি শেড। ভেঙে পড়েছে অফিস ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশ। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করলে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় গাউছিয়া কমিটি ও পুলিশ মিলে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে ছুটে যান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম, সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ ও সোনাইছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান মনির হোসেন।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল বলেন, ‘সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায় সিলিন্ডারভর্তি ট্রাক ও আশপাশে। উড়ে গেছে কারখানার একাধিক শেড, ভেঙে পড়েছে বিল্ডিং। এসবের মধ্যে উদ্ধারকাজ করা কঠিন। তবু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২২ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছয়জন ছিল মৃত। এখনো ভবনের ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে হতাহত আছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য উদ্ধারকারী আলাদা দুটি টিম এসে কাজে যোগ দিয়েছে। আবারও বিস্ফোরণের শঙ্কা আছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল আলম অভি জানান, বিস্ফোরণে তাঁদের ঘরের দরজা উড়ে যায়। ঘরে থাকা সব কাচের জিনিসপত্র ভেঙে যায়। এ সময় তাঁরা ভয়ে বাইরে বেরিয়ে যান। আশপাশের লোকজনও ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। তিনি অক্সিজেন কারখানার আগুনের কুণ্ডলী দেখে সেখানে ছুটে যান। ভেতরে প্রবেশের পর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি মরদেহ দেখতে পান।

সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম জানান, রাত ৯টায় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্ধারকারী দল এসে জানিয়েছে, তাদের ধারণা ভেতরে আর কেউ নেই। তাই উদ্ধারকাজ তখন স্থগিত করা হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু ও ২২ জন আহত হয়েছে।

সোনাইছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুনির আহমেদ জানান, এত বিকট বিস্ফোরণ হয়েছে যে এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়ে। বিএম ডিপোর পর আবারও ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ। এর মধ্যে সীমা অক্সিজেন কারখানার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার টুকরা উড়ে গিয়ে এক কিলোমিটার দূরে শামছুল আলম নামের একজনের মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তিনি বলেন, আশপাশে শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন : উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসানকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনার খবর শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। তবে বিস্ফোরণের ঘটনার পর কারখানা ছেড়ে মালিকপক্ষের লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় ভেতরে ঠিক কতজন কর্মরত ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে জানা যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালে স্বজনদের কান্না : বিকেলে বিস্ফোরণের পর থেকে হতাহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। উত্সুক জনতার ভিড় সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান গতকাল রাত ৮টা ১০ মিনিটে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ হাসপাতালে এসেছে। এ ছাড়া আহত ২০ জনকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চারজনের অবস্থা বেশি খারাপ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর শামছুল আলম (৫৬), বিএমএ গেট এলাকার আবুল বাসার মিয়ার ছেলে ফরিদ (৩৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার রতন লখরেট, নোয়াখালীর মাইজদীর মো. আব্দুল কাদের ও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মহিদুল হোকের ছেলে মো. সালাউদ্দিন। এ ছাড়া মৃত অন্য অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের বয়স আনুমানিক ৩০ বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে আছেন নূর হোসেন (৩০), মো. আরাফাত (২২), মোতালেব (৫২), ফেনসি (৩০), জসিম উদ্দিন (৪৫), নারায়ণ ধর (৬০), ফোরকান (৩৫), শাহরিয়ার (২৬), জাহিদ হাসান (২৬), মাকসুদুল আলম (৬০), মো. ওসমান (৪৫), মো. সোলায়মান (৪০), মো. রিপন (৪০), মো. আজাদ (২২), মো. জাহেদ (৩০), রোজি বেগম (২০), মাহিন শাহরিয়ার (২৬)।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com