1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার

ওমর (রা.) সেই ঐতিহাসিক চিঠিতে বিচারকদের কী লিখেছিলেন?

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫০১ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক;:

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ২১ হিজরিতে আবু মুসা আশআরি (রা.)-কে কুফা নগরীর বিচারক পদে নিয়োগ দেন। ২২ হিজরিতে বসরার বিচারক ও শাসক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এ সময় ওমর (রা.) বিচারকার্যবিষয়ক ইসলামের নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ঐতিহাসিক একটি চিঠি লেখেন, যা হাদিস ও ইতিহাসের কিতাবে সংরক্ষিত। ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে আল্লামা ইবনুল কায়্যিম জাওঝি (রহ.) এ চিঠি সম্পর্কে লেখেন—‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি। আলেমরা ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতে বিচার ও সাক্ষ্যগ্রহণের মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। বিচারক ও মুফতিদের উচিত এ চিঠি পড়া এবং তা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা।’ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) সংকলিত ‘মুখতারাত’ থেকে ঐতিহাসিক চিঠিটির ভাষান্তর করেছেন হাবিবা রহমান উজরা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনিন ওমরের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ বিন কায়েসের প্রতি। আল্লাহ তোমার প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর, নিশ্চয়ই বিচারকার্য আল্লাহর নির্ধারিত দায়িত্ব ও রাসুল (সা.) অনুসৃত সুন্নত। যখন তোমার কাছে কোনো বিচার আসে তুমি ভালোভাবে তা বুঝে নাও। কেননা যে সত্য বাস্তবায়িত হয় না, তা বলে কোনো লাভ নেই। তোমার আচার-আচরণ ও চাল-চলনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো। যেন অভিজাতরা তোমার অন্যায় প্রশ্রয় প্রত্যাশা না করে এবং দুর্বলরা তোমার অন্যায় আচরণের ভয় না পায়। দাবিকারী প্রমাণ পেশ করবে এবং অস্বীকারকারী শপথ করবে। মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা বৈধ, যদি না তা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল বানিয়ে ফেলে।

গতকালের যে রায় থেকে তুমি মনে মনে ফিরে এসেছ এবং মেধা-প্রজ্ঞার কারণে তুমি সুপথপ্রাপ্ত হয়েছ, তা থেকে সরে আসতে তুমি দ্বিধা কোরো না। কেননা সত্যই চিরন্তন। কোনো ভ্রান্ত কাজে স্থির থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসাই উত্তম। দ্বিধাগ্রস্ত বিষয়ে তুমি খুব সতর্কতা অবলম্বন কোরো। যেসব বিষয় সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহে নেই, তুমি তার সদৃশ ও অনুরূপ বিষয় অনুসন্ধান করো এবং তার সঙ্গে বিষয়টির তুলনা করো। অতঃপর তোমার দৃষ্টিতে যেটি আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় এবং সত্যের বেশি নিকটতর মনে হয় তা গ্রহণ করো।

দাবিকারীকে তার অধিকার দাও বা প্রমাণ পেশ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাও। প্রমাণ পেশ করতে পারলে তা তুমি গ্রহণ করবে নতুবা বিচার-বিবেচনা করে রায় দেবে। নিশ্চয়ই এ প্রক্রিয়া সন্দেহের অবকাশ ঘটাতে, অজ্ঞতা দূর করতে এবং অপারগকে সুযোগ প্রদানে অধিক ফলপ্রসূ। পরস্পরের প্রতি মুসলমানের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যাকে ‘হদ’ কার্যকর করতে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বা যে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে প্রহৃত হয়েছে বা যে আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সন্দেহভাজন তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা আল্লাহ তোমাদের থেকে গোপনীয়তা এবং সন্দেহ দূর করে দিয়েছেন। বাদী ও বিবাদীকে সত্য ও অধিকার প্রদানে বিরক্তি ও বিতৃষ্ণা প্রকাশ এবং মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকো। কেননা আল্লাহ এর বিনিময়ে প্রতিদান ও কল্যাণের ভাণ্ডার রেখেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর মধ্যকার বিষয়গুলোর ব্যাপারে নিষ্ঠাবান হবে, আল্লাহ তাঁর ও মানুষের মধ্যকার বিষয়ে যথেষ্ট হবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহবিরোধী বিষয়কে মানুষের সামনে সুশোভিত করে তুলে ধরবে আল্লাহ তার পর্দা সরিয়ে দেবেন এবং তার মন্দ কাজ প্রকাশ করে দেবেন। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com