1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫, চিকিৎসক হতে চান অমি ভয়াবহ লোডশেডিং: ‘নিদ্রাহীন রাত’ কাটলো জগন্নাথপুরবাসীর দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করলো পাষণ্ড বাবা জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির পূনাঙ্গ কমিটি অনুমোদন সিলেট স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি, বাড়ছে তেলের দাম সিলেটে পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ আটক স্বামী জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ 

ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে একা পেয়ে সুযোগ নিলেন শিক্ষক

  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২
  • ১২৫৫ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্ন বিরতী চলছে। ৫ম শ্রেণিতে ৩ জন উপস্থিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন শিক্ষার্থী দুুপুরের খাবার খেতে বাড়ি চলে গেছে। এক ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে একা একা বসেছিল। ওই ছাত্রী যখন শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে চাইলো তখন দানিছুর রহমান চৌধুরী নামের এক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করানোর অজুহাতে ছাত্রীকে একটি বই নিয়ে কাছে যেতে বলে। কথামতো ছাত্রী একটি বাংলা বই নিয়ে শিক্ষকের কাছে যায়। তখন শিক্ষক ওই ছাত্রীর জামা ধরে টান দিয়ে তাকে কাছে নিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে হাত বুলাতে থাকে। এতে ছাত্রী বিব্রত হয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে শিক্ষক ছাত্রীর জামা ধরে টানতে থাকে। ছাত্রী কৌশলে শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবগত করলে প্রধান শিক্ষক আবার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানানোর জন্য বলেন। পরে ছাত্রীর মা বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবগত করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীর পরিবার। গত মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ধুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনটি ঘটে। অভিযুক্ত দানিছুর রহমান ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ওই ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামসহ এলাকাবাসী শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত কয়েক দফা বৈঠক করে। বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় খোলার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন অন্য শিক্ষকেরা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। তিনি (চেয়ারম্যান) বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে ছাত্রীর পরিবারের লোকজনেক সামনে পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেয়ে ‘এটি কোনো বিষয়ই না’- বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এমন মন্তব্যে ছাত্রীর পরিবারের লোকজন মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রীর এক চাচা।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাসি পন্ডিত বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।’
অভিযুক্ত শিক্ষক দানিছুর রহমান চৌধুীর বলেন, ‘চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ক্লাসে ছিল। আর দুজন গোসল করতে চলে যায়। আর ওই ছাত্রীকে (অভিযোগকারী) টান দিয়ে এনে থাপা দিয়ে বলেছি আমি তোদের মারি না শাসনও করি। পরে ছাত্রীকে অন্য শিক্ষার্থীদের আনতে বলি।’
প্রধান শিক্ষক মনমত চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রীর বাবা বাড়িতে না থাকায় তারা (ছাত্রীর পরিবার)। সত্য মিথ্যা যাচাই করবে গ্রামের মানুষ। আমার শিক্ষক বলেছেন তিনি ছাত্রীকে শাসন করেছেন, ছাত্রীর পরিবার বলছে ছাত্রীকে হেস্তন্যস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখবেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘আমিও শিক্ষক। ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চা কোলে রাখলে কিছু রাখবে কিছু হবে না। বর্তমান যুগে ক্লাস ফাইভের বাচ্চারা ম্যাচিউর্ড হয় না। শহরের বাচ্চারা ম্যাচিউর্ড হয় কারণ তাদের বাবারা শক্তিশালী খাবার দেয়। এরাতো (গ্রামের) সিদল, শুটকি খায় তাই এদের শরীর গ্রোথ হয় না। ওই ছাত্রীর শরীরে স্পর্শ করে থাকলে শিক্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি দিবো।’
এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com