স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়ার বিরুদ্ধে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উত্তরাধিকারী (ওয়ারিশান) সনদ না দিয়ে ক সময়ক্ষেপণ ও টালবাহানার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। হয়রানির শিকার ওই ইংল্যান্ড প্রবাসী সুবিচারের আশায় গত ৫ অক্টোবর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর হাড়িকোনা গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে ইংল্যান্ড প্রবাসী মোহাম্মদ লিপু মিয়া তাঁর পারিবারিক উত্তরাধিকারী সনদের জন্য এই আবেদন করেন। লিপু মিয়ার পিতা শফিক মিয়া ২০০০ সালের দিকে ৬ ছেলে ও ৬ মেয়েকে ওয়ারিশান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে পরিবারের সকল সদস্য যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করায় দাপ্তরিক কাজের স্বার্থে তাঁদের একটি যৌথ ওয়ারিশান সনদের প্রয়োজন হয়।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী লিপু মিয়া নিজে দেশে আসতে না পারায় তাঁর পক্ষে উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য আপন চাচাতো ভাই রেজুওয়ান কোরেশীকে (৪০) মনোনীত করে প্যানেল চেয়ারম্যানের নিকট পাঠান। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়া কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রতিনিধিকে ফিরিয়ে দেন এবং সনদ প্রদান না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
প্রবাস থেকে মুঠোফোনে মোহাম্মদ লিপু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ৬ ভাই ও ৬ বোন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে থাকলেও দেশের মাটির সাথে আমাদের নাড়ির টান অবিচ্ছেদ্য। আমাদের বৈধ ও ন্যায্য অধিকারের উত্তরাধিকারী সনদটি পাওয়ার জন্য সমস্ত নিয়ম মেনে প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন করা হলেও প্যানেল চেয়ারম্যান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের ঘোরাচ্ছেন। প্রবাসীদের এভাবে দাপ্তরিক হয়রানি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরুপায় হয়ে আমরা ইউএনও মহোদয়ের দ্বারস্থ হয়েছি।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মনোনীত প্রতিনিধি রেজুওয়ান কোরেশী জানান, তিনি প্রয়োজনীয় সকল আইনি নথিপত্র ও প্রমাণাদিসহ একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি না দেখিয়ে কেবলই অনর্থক টালবাহানা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৭ নম্বর সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তিগত টালবাহানা বা প্রবাসীকে হয়রানির উদ্দেশ্য নেই। যেহেতু পুরো পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন, তাই তাঁদের ওয়ারিশদের সঠিক সংখ্যা, পরিচয় ও দাখিলকৃত নথিপত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংবেদনশীল এই প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিয়ম অনুযায়ী সনদপত্র ইস্যু করা হবে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রবাসী লিপু মিয়ার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যদি অনর্থক হয়রানি বা গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তবে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে ভুক্তভোগীকে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।