জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে জেলা পরিষদ আইনের তিনটি ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
রিটে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। এই আইনজীবী জানান, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য সম্পূরক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আজই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটের বিষয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, জেলা পরিষদ আইন ২০০০ সালের ৪ (২) ও ১৭ ধারা এবং জেলা পরিষদ সংশোধিত আইনের ৫ ধারাকে রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এসব ধারায় বলা হয়েছে জেলার অন্তর্ভুক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যেমন: সিটি করপোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা পরিষদ, পৌর করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ নির্বাচক মণ্ডলীর সদস্য হবেন। এবং তারা জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ আইনের এই তিনটি ধারা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭, ১১, ২৬, ২৭, ৩১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং প্রস্তাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর মধ্যে সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের প্রত্যেক ইউনিটে প্রতিনিধিরা আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন। বাংলাদেশে ইলেক্টোরাল ভোটের নিয়ম নেই। ইলেকক্টোরাল ভোট গ্রহণ করার আগে এ সংক্রান্ত বিধি করতে হবে। তা না করেই ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সঠিক হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে জেলা পরিষদ আইনে যে সংশোধনী আনা হয়েছে সেটিও সঠিক হয়নি। তাছাড়া এই নির্বাচনের মনোনয়নের সময় পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারী দল থেকে বলা হয়েছে, যারা মন্ত্রী বা সাংসদ হতে পারেননি দলে পদ-পদবীও নেই এসব নেতাদের খোঁজে বের করে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় আইনের বিধান সমূহ ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থে নয় দলীয় স্বার্থে করা হয়েছে। এসব যুক্তি দেখিয়ে রিটটি দায়ের করা হয়েছে। সুত্র- দৈনিক নয়াদিগন্ত।
Leave a Reply