1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে নৌকাডুবিতে নিহত ৪ পরিবারের পাশে জামায়াত জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের মৃত্যু, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বিয়ের চার মাসের মাথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন জগন্নাথপুরের ছাত্রলীগ নেতা বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দীর্ঘ হবে: মির্জা ফখরুল সরকারের নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলা অপরাধ : তথ্যমন্ত্রী জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হাসান সুনুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ ‘কিছু বুঝে উঠার আগেই নৌকাটি ডুবে গেল’ নৌকাডুবির ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমেদের শোক জগন্নাথপুরে নৌকাডুবি: স্বামীহারা, দিশেহারা সম্পা

নারী দিবসে ছেলেটির কাছে মেয়েটির চাওয়া

  • Update Time : রবিবার, ৬ মার্চ, ২০১৬
  • ৮৪৩ Time View

রণজিৎ সরকার :: আজাদ আর তিতি পাশাপাশি হাঁটছে। তিতির ডানহাতের ভেতর আজাদের বাঁ-হাত। আজাদ তিতির দিকে তাকাল। তারপর মুচকি হেসে বলল, ‘তিতি, তোমাকে একটা কথা বলতে চাই আমি।’
তিতি আজাদের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘অনেক কথা তো বললে এত সময়। এখন আবার কী কথা বলবে। গোপন কোন কথা। তোমার কোন কথার ওপর কখন ১৪৪ ধারা জারি করেছি? করিনি। তাই বলছি, যা বলতে চাও, তা বলে ফেল।’
‘ঠিক আছে তিতি। আমার কোন কথার ওপর তুমি ১৪৪ ধারা জারি করোনি। যে কথাটা বলতে চাই, সে কথাটা এই মুহূর্তে মনে পড়ল। তাই অনুমতি নিয়ে বলতে চাচ্ছি তোমাকে।’

তিতি হাতটা টান দিয়ে বলল, ‘বলো। তাড়াতাড়ি বলো। তোমার অনুমতি চাওয়ার শুনেই আমার সন্দেহ হয়েছে। এই মুহূর্তে তুমি অন্য ধরণের কথা বলতে চাও, মনে হচ্ছে। কথাটা শোনার আগ্রহ বেড়ে গেছে আমার। তুমি বলো কথাটা।’
‘তিতি, তুমি এত অধৈর্য হচ্ছে কেন?’
‘আমি শুনতে চাই সে কথা।’
‘অবশ্যই বলব। তার আগে তোমাকে একটা প্রশ্ন করব। তুমি উত্তর দিতে পারবে?’
তিতি হাত নাড়াতে নাড়াতে বলল, ‘আগে প্রশ্ন করো। প্রশ্ন না করলে আমি উত্তর দেব কি করে।’
‘আচ্ছা, বলছি, তুমি বলো তো, নারী দিবস কবে?’
তিতি আজাদের হাত ছেড়ে দিল। চুলের ভেতর হাত রাখল। কি যেন ভাবতে লাগল। নারী দিবসের তারিখের কথা মনে করার চেষ্টা করছে হয়তো তিতি। সে জন্য চুলের ভেতর হাত দিয়েছে।
আজাদ বলল, ‘নারী হয়ে ‘নারী দিবস’ কবে মনে রাখতে পারে না। এটা বড়ই লজ্জার কথা। এখন হয়তো গুগলের সাহায্য নিতে হবে তোমাকে, তাই না?’
হঠাৎ তিতি বলল, ‘নারী দিবস ৮ মার্চ।’
আজাদ খুশি হয়ে বলল, ‘ধন্যবাদ তোমাকে।’
তিতি বলল, ‘আমাকে ধন্যবাদ দিতে হবে না। কারণ তারিখটা বলতে আমার দেরি হয়েছে। সে জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এবার বলো আজাদ কি কথা বলতে চাও আমাকে।’
‘বলব, একটু ধৈর্য ধরো।’
তিতি অন্য দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওই যে শানবাঁধানো বেঞ্চ। ওখানে গিয়ে বসি। তারপর কিছু তোমার কথাটা শুনি।’
আজাদ মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল, ‘আচ্ছা চলো।’

আজাদ আর তিতি ওখানে গিয়ে বসল।
তিতি বলল, ‘এবার কথাটা বলো?’
‘আচ্ছা তিতি, নারী দিবসে কি কারণে সৃষ্টি হলো, তা কি তুমি জানো?’
তিতি মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে বলল, ‘জানি না তো। তুমি কি আমাকে বলবে নারী দিবসের কথা?’
‘আজ অবশ্যই তোমাকে বলব।’
‘আচ্ছা বলো। আমি শুনি। তোমার মুখ থেকে নারী দিবসের কথা শুনলে আমার মনে থাকবে। কারণ প্রিয় মানুষের কথা শুনতে ভালো লাগে। আর ভালো লাগা থেকে গভীর মনোযোগ থাকে সে কথা শোনার প্রতি। তুমি আমার মনের মানুষ। তুমি আমার প্রিয় মানুষ। কথাটা তুমি বলো।’
‘আচ্ছা বলছি, শোনো। সম কাজে দিতে হবে সমান বেতন। ১৯০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই দাবিতে আমেরিকার বস্ত্র কারখানার মহিলা শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন। আন্দোলন ব্যাপক আকার নেয়। বাধ্য হয়ে মেনে নেয় কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনাকে মনে রেখে ১৯১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ শনিবার রাশিয়ায় প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস পালিত হয়। ১৯১৪ সালের ৮ মার্চ পালিত হয় ওই দিনটি। সম্ভবত রোববার হওয়ার কারণে সেই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ওই বছরই জার্মানিতে প্রথম স্বীকৃতি পায় মেয়েদের ভোটাধিকার।’

তিতি একটু অবাক হয়ে বলল, ‘তাই আজাদ, একথা মনে থাকবে আমার আজীবন। এবার আসল কথা বলো। যে কথা বলতে চাচ্ছিলে।’
‘আসল কথাটা বলতেই হবে।’
‘হ্যাঁ, কথাটা শোনার জন্যই তো এত কিছু।’
‘তাহলে শোন, কথাটা বলছি, তুমি তো নেল পলিশ পছন্দ করো। নখে দিতে ভীষণ পছন্দ করো।’
‘হ্যাঁ, সে কথা তো তুমি জানো। আর জানো বলেই তো আমাকে এখন পর্যন্ত কতগুলো নেল পলিশ উপহার দিয়েছ। এখন যেটা পরে আছি, এটাও তো তোমার দেওয়া।’
‘ঘটনা তো এই নেল পলিশ নিয়েই।’
তিতি রেগে বেঞ্চে থেকে উঠল। তারপর বলল, ‘তুমি কি আবার কাউকে নেল পলিশ কিনে দিয়েছ?’
আজাদ তিতির ডান হাতটা ধরল। তারপর বলল, ‘এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন? বসো। আমার কথা শেষ করতে দাও।’
পাশ দিয়ে হর্কাস যাচ্ছে পানি নিয়ে। আজাদ ডাক দিল। এক বোতল পানি নিল। টাকা দিল। হর্কাস চলে গেল। তারপর আজাদ বলল, ‘তিতি পানি খাও। পানি খেয়ে শান্ত হও।’
তিতির পানি পিপাসা আগেই লেগেছিল। তাই সে পানি খেল। তারপর শান্ত হয়ে বলল, ‘এবার বলো।’
‘আচ্ছা বলছি শোনো, তোমার সতীন।’

তিতি সতীনের কথা শুনে আবার রেগে উঠল। তারপর বলল, ‘আমার সতীন মানে।’
‘আমাদের বিয়ের পর তোমার সতীন হবে বলিউড নায়িকা, আমার প্রিয় নায়িকা সোনাক্ষী সিনহা।’
‘তা-ই। তো বেশ। এমন সতীন হওয়া তো বেশ ভালো। কাছে থাকবে না। থাকবে দূরে দূরে।’
আজাদ মুচকি হেসে বলল, ‘তোমার সতীন নারী দিবসে কি করবে তুমি কি জানো?’
‘না তো। কি করবেন?’
‘দেশের তো খোঁজখবর রাখ না। দুনিয়ারও কোন খোঁজখর রাখ না। শুধু আছে সাজুগুজো নিয়ে। আর ফেসবুকে নিয়ে। অনলাইনে যেহেতু থাক। নিউজ পোর্টালগুলো এক পলক চোখ বুলিয়ে নিতে পার। জানতে পারবে অনেক কিছু।’
‘আচ্ছা, আজ থেকে শুরু করব। তোমার কথা মতো। এবার বলো কী করবে সে।’
‘নারী দিবসে নেল পলিশ পরে বিশ্বরেকর্ডের ইচ্ছা সোনাক্ষীর!’
‘তাই।’
‘হ্যাঁ। নেল পলিশ পরে বিশ্ব রেকর্ড করার ইভেন্টে যোগ দিতে আপাতত সুপার এক্সাইটেড সোনাক্ষী। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম প্রবেশের আনন্দে দিন গুনছেন তিনি।’
‘সোনাক্ষীর জন্য শুভ কামনা। তবে আমাকে ওই দিনে একটা নেল পলিশ কিনে দিতেই হবে কিন্তু আজাদ।’
‘ঠিক কিনে দেব।’
‘ধন্যবাদ তোমাকে। আজাদ, এখন উঠি।’
‘আচ্ছা চলো।’
আজাদ আর তিতি উঠে হাঁটতে শুরু করল।

লেখক: তরুণ কথাসাহিত্যিক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com