1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক

প্রতিক্রিয়া : এ কেমন অপপ্রয়োগ-উজ্জ্বল মেহেদী

  • Update Time : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৭৩ Time View

প্রতিক্রিয়া : এ কেমন অপপ্রয়োগ

পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রিত গ্রাম। যখন বিদ্যুৎ এলো, বদলাতে লাগল মানুষের জীবনাচার। হালনাগাদ খবর পেতে রেডিও কিনে আনলেন কয়েক গ্রামবাসী। রেডিও শুনতে হিড়িক পড়ল। এই হিড়িকে পেছনে পড়ে গেল পঞ্চয়েতের লোকজন। কেউ কেউ দলছুটও হওয়ার অবস্থায়। পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে কী করা? রেডিওতে কী হয়, শুনতে গিয়ে জানা হলো খবরের আগে ও পড়ে গানও শোনা হয়। সুযোগ পেল পঞ্চায়েত। রেডিও শোনা পাপ। পঞ্চায়েতি নির্দেশে গ্রামে বন্ধ হলো রেডিও। এরপর এলো টেলিভিশন। সেটিও একইভাবে বন্ধ। ভিসিআর-ভিসিডি-টেপরেকর্ডার সবই রুদ্ধ। প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অগ্রগামী গ্রামবাসী কয়েকজন সংক্ষুদ্ধ। পঞ্চায়েতের মুখোমুখি হলেন তারা। চলল তর্কবিতর্ক। পঞ্চায়েতকে বোঝাতে ব্যর্থ গ্রামবাসী শেষে কাতর সুরে বললেন, ‘তাহলে বলে দেন, আমরা কী করব?’ প্রযুক্তির গতিতে চলা গ্রামবাসীর সরল প্রশ্নেও শুনতে হলো রক্তচক্ষুর জবাবদিহিতা। বলা হলো, ‘তোমরা কী-ও করতে পারবে না!’

গল্পটি সত্য। ছোটবেলায় রেডিও-টেলিভিশনে বুঁদ থাকার সময় শোনা। এই ‘কী-ও করতে পারবে না’ গ্রামবাসীর মতোই গণমাধ্যমকর্মীরা। একটি আইন যেন সেই অদ্ভুত আঁধারের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগ এখন। রেডিও-টেলিভিশন তো বটে, প্রচারযন্ত্রের অনেক কিছু এখন মন্দাতার। হাতের মুঠোতেই সব। গোটা বিশ্ব মুঠোতে। খবরাখবর জানা, শোনা, দেখার কোনো কসরত করতে হয় না। এক কথায় সব কটা জানালা খোলা। এই খোলা জানালার মধ্যেও কেউ কেউ বড় বিরাগ হন। অত্যাধুনিক যুগে বসবাস করেও মন্দাতার দিকে ছুটেন। মামলা করে শায়েস্তা করতে চান। এই মামলা-মোকদ্দমার অভিযোগ নিয়ে বড় বিস্ময় খেলা করে। এজহারের ভাষাগুলো কেন সাধু ভাষায় লেখা হয়? কেন সত্য বয়ান বর্ণিত হয় না? কেন সাধু ভাষার আড়ালে রোপন করা হয় অসাধুতা?

না, প্রশ্ন বা প্রতিক্রিয়া এখানে নয়। প্রতিক্রিয়াটা একজন সাদামাটা গণমাধ্যমকর্মীর। অগ্রজপ্রতিম সাংবাদিক, সিলেটের দৈনিক ‘একাত্তরের কথা’ সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে যাঁরা চিনেন-জানেন, তাঁদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া মোমবাতির মতো নয়। আগুন লাগলে গলে যায় না। মামলা-হামলা নতুন নয়। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নতুন। সিলেটে কর্মরত কোনো জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও তাঁর টিমওয়ার্কের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা নতুন।

অপরাধ কী খুঁজতে গিয়ে রিপোর্টারের উৎসুক্য থেকে ফোন করি শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীকে। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি। তিনি বলেছেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলাটি ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের সম্পর্কে মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে চোখ রাখি। তাতে বলা হয়েছে, ‘একে অপরের সহায়তায় অনলাইন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর সংবাদ ও তথ্য প্রকাশ করার অপরাধ।’ এজাহারে বলা হয়, ‘একাত্তরের কথা’ পত্রিকায় গত ২৮ নভেম্বর ‘ভয়ে চুপ উপশহর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদন অনলাইনেও প্রচারিত হয়। সম্পাদক-প্রকাশকসহ প্রতিবেদকেরা প্রতিবেদনটি প্রচার করেছেন এবং বাকি ১১ জন সংবাদটি ফেসবুকে প্রচার করেন। এতে এলাকায় অস্থিরতা ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। সংবাদ প্রচার ও ফেসবুকে শেয়ার করে ‘ভাইরাল’ করায় সামাজিক মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারে গণমাধ্যমকর্মীরা যে হয়রানি শিকার হচ্ছেন, তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত মামলাটি। চৌধুরী মুমতাজ আহমদ বললেন, ‘প্রকাশিত সংবাদে তিনি অসন্তুষ্ট হতেই পারেন। মানহানি বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রতিবাদ জানাতে পারতেন, মানহানির মামলা কিংবা প্রেস কাউন্সিলে নালিশ করতে পারতেন। তা না করে হয়রানি করতেই এই মামলা করেছেন। একটি সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তা প্রচার করার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কী করে প্রয়োগ হয়? পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই আসল সত্য বের হয়ে আসবে।’

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী কাজ করছে ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। বৈশ্বিক এই সংগঠনটির চোখ ঈগলের মতো। বাংলাদেশেও আছে সংগঠনটির কার্যক্রম। এই সংগঠনটি একটি হিসেব জুলাই মাসে দিয়েছে। কারোনাকালের হিসেব। করোনা এখনো আছে বলে সিপেজের হিসেবের খাতায় চোখ রাখি। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১০ মার্চ থেকে ২১ মে করোনা সংক্রমণের প্রথম ৭০ দিনে অন্তত ২২ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও বিডিনিউজ ২৪–এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠই ঢাকার বাইরে কাজ করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার প্রয়োগ এখনো অব্যাহত আছে। এর সর্বসাম্প্রতিক শিকার একাত্তরের কথা সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ ও তাঁর দল।

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলতে আমরা ফেসবুক বুূঝি। সব সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশনসহ মূলধারার সংবাদপ্রতিষ্ঠানই তো অনলাইন। ছাপা পত্রিকা এখন এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। তবে পাঠক বলছেন, ভরসা ছাপা পত্রিকাতেই। এই মাধ্যমে খবর নিয়ে ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়াও মিলছে। খবরের বিস্তারিত বিবরণ, পটভূমি ও বিশ্লেষণ যেগুলো খবরের কাগজে ছাপা হচ্ছে, তা–ও অচেনা সামাজিক বন্ধুদের কেউ না কেউ শেয়ার করছেন। বিশ্বাসযোগ্যতায় এগিয়ে আছে সংবাদপত্রের খবর। শাহ পরান থানায় পুলিশ ডিজিটাল আইনে যে মামলাটি নথিভুক্ত করেছে, তাতে ফেসবুকে খবর শেয়ার করে আসামি হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বিষয়টি পিলে চমকানোর মতো। আইনের প্রয়োগ তো দেখি অসীম। তাহলে তো বলবানদের বিরুদ্ধে খবর পাঠ করা আরেক বিপদ। হতে হবে আসামি!

প্রযুক্তির প্রসারে আমরা এগোচ্ছি। কিন্তু সেই গ্রাম্য আঁধার কিংবা পঞ্চায়েতদের ‘কী-ও করতে পারবে না’ শাসানি পিছু ছাড়ে না। ভাবছি, এমন দিন কি সামনে? যে দিন সংবাদ প্রকাশ ও পাঠ করা দুটোই সামন অপরাধ বলে গণ্য হবে?
তা যদি হয়, তাহলে তো সেই কী-ও করতে না পারার চেয়ে বড় বিপদ সামনে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে গণমাধ্যমকর্মীদের অনিরাপদ করার বার্তা যেন দরজায় কড়া নাড়ছে।
#
উজ্জ্বল মেহেদী : গণমাধ্যমকর্মী
৫ ডিসেম্বর ২০২০

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com