1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা

বাঙালির সংসার পোড়ে ব্রিটেনে ঘোড়ার দৌড়ে

  • Update Time : শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭
  • ৪২৮ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: ঘোড়ার ঘর’ ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের অনেকের ঘরে এক আতঙ্কের নাম! ঘোড়ার দৌড়ে যাদের আসক্তি হয়েছে তাদের সংসার পুড়েছে। ব্রিটেনে জুয়া খেলার দোকানকে বাংলাদেশিরা বলে থাকেন ঘোড়ার ঘর! মূলত ঘোড়ার দৌড়ের ওপর বাজি ধরা হয় বলেই এমন নাম।
বাংলাদেশে যেমন মোড়ে মোড়ে রয়েছে চায়ের দোকান তেমনি ব্রিটেনের মোড়ে মোড়ে রয়েছে মদ আর জুয়ার দোকান! লাইসেন্সকৃত মোট ৯ হাজার জুয়ার ঘর রয়েছে পুরো ব্রিটেনে। বছরে ১৪ বিলিয়ন পাউন্ডের জুয়া খেলা হয় ব্রিটেনজুড়ে। বাংলাদেশি টাকায় সেটা প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ! সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি যে এলাকায় বাস করেন সেই টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এক রিপোর্টে দেখা গেছে, ৩ লাখ বাসিন্দার এই কাউন্সিলে রয়েছে মোট ৯০টি জুয়ার দোকান। এই কাউন্সিলে বাংলাদেশি রয়েছেন লাখের বেশি যা মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। কাউন্সিলের জুয়াবিষয়ক রিপোর্টে বলা হয়েছে শুধু টাওয়ার হ্যামলেটেই রয়েছে ৬ হাজার নিয়মিত জুয়াড়ি। এর মধ্যে অন্তত ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে বাংলাদেশি নারী, পুরুষের আনাগোনা! জুয়ায় আসক্তদের বড় একটি অংশ হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী। এ ছাড়া অনেক বয়স্ক লোকও নিয়মিত এসব জুয়ার ঘরে গিয়ে থাকেন। গত কয়েকদিন বাংলাদেশি অধ্যুষিত মাইল অ্যান্ড থেকে শুরু করে হোয়াইট চ্যাপেল, কমার্শিয়াল স্ট্রিট, পপলারের কোরাল, ল্যাডব্রকস, উইলিয়াম হিলস ইত্যাদি বাজির দোকানে ঘুরে দেখা গেছে অসংখ্য বাংলাদেশির আনাগোনা। বাজি ধরছেন ঘোড়ার দৌড়ে, কেউবা ফুটবলে বাজি ধরছেন। তবে মজার বিষয় হচ্ছে দুনিয়ার এমন বিষয় নেই যেখানে বাজি ধরা হয় না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, বাংলাদেশের নির্বাচন সবই থাকে বাজির দৌড়ে। পপলারের কোরার নামের বাজির দোকানে কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়মিত একজন বাংলাদেশি বাজিকরের সঙ্গে। তিনি জানান, এটি একটি নেশা। প্রতিদিন এসে বাজি ধরে মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এটাই নেশা। নেশার জন্য টাকা আসছে না যাচ্ছে সেটার পরোয়া করেন না। কমার্শিয়াল রোডের উইলিয়াম হিলস নামের অপর এক বাজির দোকানে দেখা গেল একজন ৪৫ বছরের মহিলা বাজির ফরম পূরণ করছেন। কথা বলতে গেলে তিনি রাজি হননি। রাশনা বেগম নামের এক গৃহবধূ জানালেন স্বামী ট্যাক্সি চালিয়ে প্রতিদিন যা রোজগার করেন তা সবই চলে যায় জুয়ায়! সন্তানদের নিয়ে সরকারের সামাজিক ভাতা নিয়ে কোনো রকমে দিন চলছে তাদের। স্বামী মাঝে মধ্যে সরকার থেকে প্রাপ্ত সামান্য ভাতার ওপরও হামলা চালায়। না দিলে মারামারি আর সংসারের অশান্তি। আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গৃহবধূ জানালেন, স্বামী রেস্টুরেন্টে শেফ। কিন্তু সপ্তাহান্তে বেতন পেয়েই চলে যায় ঘোড়ার ঘরে। এমনকি বিয়ের সময় প্রাপ্ত সব সোনাদানা সবই গেছে ঘোড়ার ঘরে। কিংডম সলিসিটরসের প্রিন্সিপাল ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী বলেন, সারা বছরে যেসব ডমেস্টিক ভায়োল্যান্সের কেইস আমরা পাই তার একটি অংশ জুয়া খেলার অশান্তি থেকে সৃষ্ট। অল্পতে টাকার মালিক হওয়ার প্রবণতা থেকে জুয়ার দিকে আসক্তি বাড়ে অনেকের। যার শেষ পরিণতি হয় ভয়াবহ। জুয়া নিয়ে কাজ করতে গিয়ে জানা গেছে আরও ভয়াবহ তথ্য! লাইসেন্স জুয়ার ঘরের বাইরেও বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই নিজের ঘরেই জুয়ার আসর বসিয়ে থাকেন। টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘরোয়া আসরের মূল অংশগ্রহণকারী অনেক নামি-দামি ব্যবসায়ী, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কমিউনিটির কিছু নামকরা মানুষ। মূলত যারা রাস্তার পাশে বা মোড়ের বাজির দোকানে যেতে পারেন না চক্ষুলজ্জার কারণে তারাই এসব আসরের মূল টার্গেট। এসব আসর ঘিরে ইস্ট লন্ডনের বিভিন্ন গ্যাং নানা ধরনের বাণিজ্য করে থাকে। মূলত জুয়ার আসরে টাকা শেষ হয়ে গেলে তাত্ক্ষণিক টাকার জোগান দেওয়ার জন্য কিছু গ্যাং রেডি থাকে। সময়মতো সেই টাকা সুদসমেত ফেরত না দিলে নানা ধরনের বিপদ নেমে আসে। তবে এসব ঘরোয়া আসরে মূলত বিভিন্ন ধরনের তাস খেলার ওপর বাজি ধরা হয়। বৈধ হোক আর অবৈধ জুয়ার আসর হোক। ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বছরে ১৪ বিলিয়ন পাউন্ড জোগান দেওয়া বাজির ঘোড়ার দৌড়ে একটি বড় অঙ্কের টাকা যে বাংলাদেশিদের পকেট থেকে যাচ্ছে সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আর এই বাজির ঘোড়ার দৌড়ে পুড়ছে অনেক বাংলাদেশির সংসার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com