1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

বিরল জীবন বিদায়!

  • Update Time : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৪৩০ Time View

উজ্জ্বল মেহেদী-
‘সুরেশ কাকা মারা গেছেন!’ তটস্থ খলিল এ টুকু বলেই ফোন রেখে দিল। ওপাশে আমি অস্ফুট স্বরে বলছিলাম, বিদায়, বিরল জীবন!
সত্যিই তো, বিরল এক জীবনের অধিকারী ছিলেন আমাদের সুরেশ কাকা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের জীবন্ত সাক্ষী। জীবন নিয়ে ফেরার কথা ছিল না তাঁর। তিনি ফিরেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন ভাটির শার্দুল হয়ে। এমন জীবন কি কেউ পায়? অবশ্যই বিরলতম এক জীবন।
আমরা সংবাদকর্মীরা সুরেশ কাকার বর্ণনা থেকে বুঝে নিতাম ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতা। জীবন্ত সাক্ষী সুরেশ কাকা বলতেন। সেই ১৯৭১ সালের পর থেকে বলাটা শুরু। যুদ্ধ নয়, ওই একটি ঘটনা জীবনে অবিরাম বলে গেছেন। পুরো ঘটনা লিখেও রেখেছিলেন। বলতে বলতে হয়রান হয়তো। মার্চ এলে আরও বেশি বেশি বলা শুরু হতো। তাই তো দেখতাম, শেষ দিকে এসে আর বলাবলি নয়, স্মৃতিচারণামূলক লেখা ধরিয়ে দিতেন। আবার খুব সতর্কও থাকতেন, পাছে কি না আত্মপ্রচার হয়ে যায়!
আমরা সারা বছর বেমালুম ভুলে থাকলেও মার্চ মাস এলে ভুলতাম না সুরেশ কাকাকে। তাই-তো কোনো না কোনোভাবে ২৫ মার্চ এলেই সুরেশ কাকার সান্নিধ্য, দূরে থাকলেও লেখার সঙ্গে যোগাযোগ থাকতোই। গত বছরও হয়েছিল। এবার মানে আগামী ২৫ মার্চ ভাবছিলাম একটু অন্যভাবে সুরেশ কাকাকে নিয়ে কিছু একটা করবো। ‘বিরল জীবন’ বলে অভিহিত করবো। কিন্তু তাঁর আর সুযোগ হলো না। গণহত্যা দেখা সুরেশ কাকার সুমন্ত মন, সেই দুই চোখ, সেই ফিরে পাওয়া জীবন একেবারেই চলে গেল না ফেরার দেশে। চিরজীবনের জন্য হাতছাড়া এখন বিরল জীবনটা।
তারুণ্যে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফেরা সুরেশ কাকার জীবনটা ছিল আক্ষরিক অর্থে বর্ণাঢ্য। কিন্তু এ নিয়ে তাঁর কোনো অহংবোধ ছিল না। তাঁর সময়ের মানুষগুলোর অনেকেই শীর্ষে বিচরণ করছেন। তাঁদের সঙ্গে সুরেশ কাকার ভালো যোগাযোগও ছিল। আমরা টের পেতাম। ওই সব শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা হলে সুনামগঞ্জ বলার আগেই সুরেশ কাকার নাম উচ্চারণ হতো। এত কিছু সুরেশ কাকা চেপে যেতেন। ছাত্রজীবনে যেখানে ছিলেন তিনি, সেখানে সুনামগঞ্জের আর কতজনই বা যেতে পেরেছে? তাই তো নির্দ্বিধায় বলা চলে তিনি বিরল মানুষ।
সুরেশ কাকা শীর্ষ থেকে ছাত্রনেতৃত্ব দিয়ে এসে আবার ফিরেছেন শিকড়ে। ‘হোম সিক’টাই তো নাড়ির টান, পরম দেশাত্মবোধ। গহিন হাওর থেকে রাজধানী আবার হাওর জনপদে ফিরে সাদামাটা জীবনযাপন মুগ্ধ নয়, বিমুগ্ধ হওয়ার মতো। সেই মুগ্ধতা, মগ্নতায় ছেদ পড়ল। আকস্মিক মৃত্যুতে অপার শোক ভর করেছে।
শোক-কাতরতায় সুরেশ কাকার স্বজন, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমার আকুল আহবান; যে বিরল জীবন আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিলেও ধরে রাখার প্রয়াস চাই। কালরাতের সাক্ষ্যকে মূর্ত করে রাখতে কিছু একটা করা হোক। হাতে পারে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা কোনো স্থাপনার নামকরণ। যেখানে চিরজাগরূক থাকবে ২৫ মার্চের সেই কালরাতেই নিঃশ্বেষ হতে পারত যে জীবন, সুরেশ কাকার বিরল জীবন।
উজ্জ্বল মেহেদী: প্রথম আলো’র নিজস্ব প্রতিবেদক। সৌজন্য ‍সুনামগঞ্জের খবর

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com