1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

  • Update Time : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালেহ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উভয় বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এ সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা চাপিয়ে রাখার মধ্যে নয়, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই এর সমাধান নিহিত।

রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ করে মিয়ানমারে এমন একটি পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে নিজেদের ভূমিতে ফিরতে পারেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।

সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল মানবিক সহায়তা নয়, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে, সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অন্যদিকে জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে সংকটটি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশের প্রশ্নে তা কার্যকরভাবে এগোয়নি। ফলে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত নানা চাপ তৈরি করছে।

এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।

সফর সূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।

তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।

সূত্র-ঢাকা পোস্ট.কম

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com