জগন্নাথপুর টুয়েন্টি ফোর ডেস্ক -শারদীয় দুর্গোৎসবে আজ মহাঅষ্টমী তিথি। একশো আটটা পদ্ম দিয়ে আজ মঙ্গলবার পূজিত হবেন দেবী দুর্গা। সন্ধ্যায় সন্ধি পূজায় একশো আটটা প্রদীপ দিয়ে দেবীকে আরতি করা হবে।
সন্ধিপূজা মা দুর্গার আরাধনার এক বিশেষ মুহূর্ত। সন্ধি মানে মিলন। এই মুহূর্তটি হল অষ্টমী তিথি ও নবমী তিথির মিলন। মহাসন্ধিক্ষণ। অষ্টমী তিথির শেষ চব্বিশ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম চব্বিশ মিনিট মিলিয়ে মোট আটচল্লিশ মিনিট। এই সন্ধিক্ষণেই দেবী জেগে উঠে উগ্রচ-ী রূপ ধারণ করেছিলেন। তাই এই সময় দেবীর বিশেষ পূজা। অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির জয়ের জন্য আরাধনা। সন্ধিপূজা হল সেই সন্ধ্যার প্রতীক যখন মা দুর্গা চন্ড ও মুন্ড নামে দুই ভয়ঙ্কর অসুরকে বধ করেছিলেন। এই সময়ে মূলত দেবী চামুন্ডার পূজা করা হয়। এর মূলে রামায়ণের কাহিনী আমরা সবাই জানি। রাবণ বধের জন্য রাম ১০৮ পদ্ম দিয়ে দেবীর পূজা করেন ও তারপর রাবণ নিধন হয়। সেই সূত্রেই এই সন্ধি পূজা করা হয়। দেবী শক্তির বন্দনা এবং অসুর বধে অশুভ খন্ডনের প্রত্যয়ে আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী পালিত হবে।
এদিকে সোমবার ছিল শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী। পূজার শুরুতেই দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। এরপর করা হয় নবপত্রিকা স্থাপন। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বউ স্নান। এ ছাড়া দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা শেষে হাতের মুঠোয় ফুল, বেলপাতা নিয়ে ভক্তরা মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবীর পায়ে এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি দেন। ঢাকের বাদ্য, কাসর ঘণ্টা কিংবা শঙ্খধ্বনিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি করজোরে কাতর কণ্ঠে জগজ্জননীর কাছে বিশ্বের জন্য শান্তিময় প্রার্থনা করবেন ভক্তরা।