জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
শাল্লা উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের মহাদেব গাছ তলায় কীর্তনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে আগামীকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) রোববার বেলা ১১ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। এসময় মহাদেব গাছ তলায় কোনোরূপ গান-বাজনা, সভা, সমাবেশ করা যাবে না। এছাড়াও পাঁচ জনের অধিক এক সঙ্গে যাতাযাত করতে পারবে না।
জানা যায়, প্রায় শতবর্ষ পূর্ব থেকে উপজেলা সদরের বাহাড়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিব বাড়িতে (মহাদেবগাছ তলায়) মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে প্রতি বছর অষ্টপ্রহর ব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম যজ্ঞানুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবছর গ্রাম্য মতভেদের কারণে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যান ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামবাসি। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামে কীর্তনকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় দাঙ্গা হাঙ্গামা সহ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের স্থানীয় মহাদেব গাছ তলার আশপাশের ৪০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে ১৪৪ ধারা জারিসহ ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় কোন ব্যক্তির চলাফেরা, সমাবেশ, সকল প্রকার সভা, শোভাযাত্রা, লাঠিসোটা, জটলা, মাইক ব্যবহার, ইট পাটকেল নিক্ষেপ, চিৎকার ও শ্লোগান, বা কোন প্রকার অস্ত্র বহন, ব্যবহার, মাইক্রফোনের ব্যবহার, সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে এই সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এ আদেশে প্রযোজ্য হবে না।
এদিকে, ঐতিহ্যবাহি এই কীর্তন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করাকে গ্রামের এক পক্ষ বলছেন, ৮৫ ভাগ মানুষকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরেক পক্ষ বলছেন অন্যায়কে সমর্থন দিতে পারি না, এজন্য ১৪৪ ধারা জারির পক্ষে আমরা।
ঘুঙ্গিয়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের একপক্ষের নেতা এম সেন দাস বললেন, উপজেলা সদরের পাশের ঘুঙ্গিয়ার গ্রামে কেউ নতুন বসতি স্থাপন করলে পঞ্চায়েতে যুক্ত হতে হয় ’হরির লুট’ (ধর্মীয় আচার) দিয়ে, এটি বহুদিনের প্রথা। কিন্তু অনিল চৌধুরী নামের একজন তা না করায় গ্রামের ৮৫ ভাগ মানুষ তাকে যুক্ত করে মহাদেবের কীর্তন করতে চায় নি। কিন্তু গ্রামের শ্যামা প্রসাদ দাসের স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অমিতা রানী দাস জোর করেই অনিল চৌধুরীকে প্রথা ভেঙে পঞ্চায়েতে যুক্ত করতে চান। তিনি বলেছেন, অনিল চৌধুরীকে যুক্ত না করলে কীর্ত্তন হবে না। এক পর্যায়ে তিনি থানা পুলিশ এবং প্রশাসনকে দিয়ে কীর্তন না হবার জন্য ১৪৪ ধারা জারী করিয়েছেন। আমরা নিরীহরা গ্রামের ভেতরে কীর্তন করতে চেয়েছিলাম, ওখানেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গ্রামের ২১০ ঘরের মধ্যে ১৯০ ঘরই একপক্ষে আছেন যে কেউ এসে হাত তুলে জিজ্ঞেস করে জানতে পারবেন এই সত্যতা। কিন্তু তাদের কথা মানছে না প্রশাসন। প্রতিপক্ষের লোকজন ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী হওয়ায় অন্যদের কথা আমলে নেওয়া হচ্ছে না।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অমিতা রানী দাস এই প্রসঙ্গে বলেন, অনিল চৌধুরী নিয়ম অনুযায়ীই পঞ্চায়েতে যুক্ত হয়েছেন। গ্রামের কিছু মানুষের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। এরা পঞ্চায়েতের সঙ্গে মিলে অন্যায়ভাবে অনিল চৌধুরীকে বাদ দিয়ে কীর্ত্তন করতে চায়। এজন্য গ্রামে দুইপক্ষ হয়েছে। গ্রামে কার পক্ষে বেশি মানুষ, কার পক্ষে কম এটি বিবেচনা করি নি আমি, আমার মনে হয়েছে একপক্ষ অন্যায় করছে এবং এ নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতে পারে। এজন্য ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য আমরা সুপারিশ করেছি।
শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘গ্রামের এম সেন সরকার ও শ্যামাপ্রসাদ দাসের লোকজনের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে একই স্থানে দুইপক্ষ কীর্তন করতে চাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। তাই গ্রামে ১৪৪ ধারা জারীর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল মোক্তাদির হোসেন বললেন, সংঘর্ষের আশংকায় শুক্রবার ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে। আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘুঙ্গিয়ারগাঁওয়ের মহাদেব গাছতলা এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
Leave a Reply