1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক

সভ্যতার জায়নামাজ বিছাতে পারে কল্যাণকর সংস্কৃতি

  • Update Time : রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৩৬ Time View

এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, মানব সভ্যতার উন্নতি কেবল শুদ্ধ সংস্কৃতির মাধ্যমেই সম্ভব। সে জন্যই শুদ্ধ সংস্কৃতি আলোকিত জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সংস্কৃতি মানুষের মাঝে সম্প্রীতি তৈরি করে। তাই আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর প্রতিটি জাতিকেই এমন শুদ্ধ সংস্কৃতি দান করেছেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে পার।’ (সূরা হুজরাত : ১৩)।

শুদ্ধ সংস্কৃতি কী তা জানার আগে জানা প্রয়োজন সংস্কৃতি আসলে কী?

সংস্কৃতি হচ্ছে, নীতিগত বিশ্বাস আর পরিমার্জিত মনমানসিকতার নাম। সংস্কৃতি শুধু এই একটি সংজ্ঞায়ই সীমাবদ্ধ নয়। তবে এর মূল উদ্দেশ্য কিন্তু এক। আর তা হচ্ছে সংস্কার। সমাজের সব অসত্য, অন্যায়-অনাচার এবং কুসংস্কার দূর করে সত্য ও সুন্দরের চর্চা করাই সংস্কৃতির ধর্ম।

সংস্কৃতির আওতায় রয়েছে, ধর্ম, খাদ্য, পোশাক, পোশাক পরার ধরন, ভাষা, বিয়ে, সঙ্গীতসহ আরও অনেক বিষয় বস্তু। এসব কিছুর সমন্বয়ে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচার নামই শুদ্ধ সংস্কৃতি। এই শুদ্ধ সংস্কৃতির আরেক নাম ইসলামী সংস্কৃতি। আর ইসলামী সংস্কৃতি মানেই কল্যাণের সংস্কৃতি।

ইসলামী সংস্কৃতি শেখায় কারও সঙ্গে দেখা হলে সালাম (কল্যাণ কামনা) বিনিময়ের। হোক সে ব্যক্তি পরিচিত বা অপরিচিত। বড়দের শ্রদ্ধা আর ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষাও এ সংস্কৃতিই পাঠ্য। এ ছাড়া নারীদের সম্মানে পুরুষদের চোখ নিচু করা, বাবা মা’কে সম্মান করা, তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা ইসলামী সংস্কৃতির দর্শন। তাই সমাজ জীবনে এই সংস্কৃতির গুরুত্ব বেশি।

সংস্কৃতি নিয়ে অনেকেই একটা ভুল ধারণা রাখেন। তারা মনে করেন সংস্কৃতি মানেই হচ্ছে বিনোদন। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, বিনোদনও সংস্কৃতির একটি অংশ। তবে সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য নয়, উপলক্ষ মাত্র। এ-ও সত্য যে, এ উপলক্ষেরও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এ জন্যই ইসলাম সব ধরনের বিনোদনকে সমর্থন না করে সুস্থ বিনোদনকে সমর্থন করে।

যে বিনোদন মানুষের কল্যাণ সাধন করে, সে বিনোদনকে ইসলাম শুধু সমর্থনই করে না, প্রবল উৎসাহও প্রদান করে। যদিও অনেকেই মনে করেন, ইসলামী সংস্কৃতিতে বিনোদনের সুযোগ নেই। তাই বিনোদনের জন্য ইসলামের চাদর গা থেকে খুলে ফেলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।

এমন ধারণা তাদেরই, যাদের জ্ঞানের পরিধি সংকীর্ণ। মনে রাখবেন ইসলামী সংস্কৃতি মানেই রসহীন জীবনযাপন নয়।

ইসলাম কোনো অসম্পূর্ণ ধর্ম নয়। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলামে কল্যাণকর বিনোদনের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধ মাধ্যম। ইসলামের প্রাণপুরুষ হজরত মোহাম্মদ (সা.) নির্মল বিনোদনে সাহাবিদের উৎসাহ দিতেন। তাদের থেকে কোরআন তেলাওয়াত, কবিতা ও বক্তৃতা শুনতেন। তাগিদ দিতেন শরীরচর্চারও।

কেন না তিনি খুব ভালো করেই জানতেন, ব্যক্তির কাজের গতিকে অটুট রাখতে বিনোদন অপরিসীম ভূমিকা রাখে। যারা মনে করে ইসলাম বিনোদনকে কোণঠাসা করেছে, তারা মূলত বিনোদনের সংজ্ঞাই জানেন না। তাই ইসলামকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এমন প্রবঞ্চনা করা হয়েছে। ইসলাম নির্মল বিনোদনের মাধ্যম ‘ভ্রমণ’কে গুরুত্ব দিয়েছে।

ভ্রমণ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো, কীভাবে তিনি সৃষ্টি কর্ম শুরু করেছেন।’ (সূরা আনকাবুত : ২০)।

আফসোস! বিনোদনের নামে আজ নগ্ন মাতাল নেশায় আচ্ছন্ন তরুণ প্রজন্ম। তাদের ‘জীবন আমার, সিদ্ধান্ত আমার’ স্লোগানে কলুষিত হচ্ছে সভ্যতার জায়নামাজ। আর এর মূলে রয়েছে আকাশ সংস্কৃতির সহজলভ্যতা। স্বীকার করছি বিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়কর সৃষ্টি ‘আকাশ সংস্কৃতি’র অবদান অনেক। কিন্তু এর অপকারেরও যে শেষ নেই।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অপব্যবহারে পুরো পৃথিবী আজ নেশাগ্রস্ত। কী যুবা কী বৃদ্ধ। এর বিষবাষ্প থেকে রেহাই নেই কুঁড়ি হয়ে বের হওয়া শিশু-কিশোরদেরও। চিত্তবিনোদনের শিরোনামে এসব অপসংস্কৃতির লাগামহীনতায় নিকষ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে আগামীর পৃথিবী। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হল শুদ্ধ সংস্কৃতি তথা ইসলামী সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার করা।

ওরা যদি ওদের বস্তাপচা সংস্কৃতি আমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারে, আমরা কেন আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি তাদের ঘরে পৌঁছে দিতে পারব না? আমাদেরও বা কমতি কিসে? আমাদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্মীয় সংস্কৃতির বিশাল ভাণ্ডার।

তাই নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বিকিয়ে চড়া দামে ফালতু সংস্কৃতির চাদর ক্রয় না করি। নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখি। আর তাদের দোয়ারে দোয়ারে পৌঁছে দিই আমাদের সংস্কৃতি।

নবীজি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যদের সঠিক পথের দিকে আহ্বান করে, সে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, যারা সে পথের অনুসরণ করবে। অথচ তাদের কারও সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কম করা হবে না।’ (সহিহ মুসলিম : ৪৮৩২)।

একটা কথা ভালো করে মনে রাখবেন, হাতির দাঁত বেরিয়ে এলে যেমন ভেতরে প্রবেশ করানো সম্ভব নয়, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তির এ অগ্রগতিকেও থামানো সম্ভব নয়। তবে কুশিক্ষা আর অপসংস্কৃতির প্রতিরোধ করা অসম্ভব নয়। সম্ভাবনার দুয়ার আজও খোলা। প্রয়োজন শুধু প্রজন্মকে সঠিক পথ বাতলে দেয়ার।

# আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

লেখক : প্রাবন্ধিক

যুগান্তর

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com