1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে মাদক সেবনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে জগন্নাথপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই: গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৬ দলিল সই, সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন ঋতুর পরিবর্তন আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশ এখন আর অদক্ষ শ্রমিক বি‌দে‌শে পাঠাবে না : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জগন্নাথপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২, আটক চারজন কারাগারে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জগন্নাথপুরে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি ও স্বেচ্ছায় রক্তদান সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

সুদ অর্থনৈতিক বৈষম্য বয়ে আনে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৮১ Time View
মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সঙ্গে ঋণের সম্পর্ক বহু পুরনো। সংসারের প্রয়োজন, ব্যবসার সম্প্রসারণ, কৃষিকাজের ব্যয় কিংবা অপ্রত্যাশিত কোনো বিপদ ইত্যাদি বিভিন্ন সময়ে মানুষ অন্যের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে।

একসময় এই সম্পর্ক গড়ে উঠত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই পরিসর বড় হয়েছে; ব্যক্তিগত লেনদেনের জায়গা নিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মহাজনের জায়গায় এসেছে ব্যাংক, আর স্থানীয় অর্থনীতি যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার সঙ্গে। 

এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ঋণের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে তাকে ঘিরে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। একসময় ঋণকে শুধু প্রয়োজনের সহায়ক হিসেবে দেখা হতো; পরে তা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

আধুনিক অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ঋণ আর শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বিষয় থাকেনি; রাষ্ট্র, শিল্প, বাণিজ্য, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে সুদ শুধু একটি আর্থিক হার নয়; এটি সম্পদের প্রবাহ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং সামাজিক কাঠামোর ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

ইসলাম ঋণের প্রয়োজন অস্বীকার করে না; বরং মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতাকে ইবাদতের মর্যাদা দেয়। তবে সেই সহযোগিতা যেন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুনাফা অর্জনের অন্যায় মাধ্যমে পরিণত না হয়, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব আরোপ করে।

তাই কোরআন ও সুন্নাহয় সুদের আলোচনা শুধু একটি আর্থিক বিধান হিসেবে আসেনি; বরং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। ঋণের ইতিহাস যত পুরনো, সুদকে ঘিরে বিতর্কের ইতিহাসও প্রায় ততটাই দীর্ঘ।

প্রাচীন সভ্যতাগুলোর আইনসংহিতা, গ্রিক দর্শন, ইহুদি ও খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব, এমনকি মধ্যযুগীয় ইউরোপের অর্থনৈতিক আলোচনাতেও সুদ ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এর পক্ষে যেমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তেমনি এর বিরুদ্ধে নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক আপত্তিও উত্থাপিত হয়েছে। ফলে সুদকে শুধু একটি ধর্মীয় আলোচনার বিষয় মনে করলে ইতিহাসের একটি বড় অংশই আড়ালে থেকে যাবে।

 

ইসলামের আবির্ভাবের সময় আরব সমাজেও সুদ ছিল পরিচিত একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সে সময় ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতো, তবে সেই সময়ের বিনিময়ে মূল ঋণের ওপর আরো অর্থ যোগ করা হতো। ঋণ পরিশোধে বিলম্ব যত বাড়ত, দেনার পরিমাণও তত বৃদ্ধি পেত। অনেক ক্ষেত্রে একটি সামান্য ঋণই বছরের পর বছর ধরে পরিবার ও গোত্রের ওপর বোঝা হয়ে থাকত। আর্থিক দুর্বলতা তখন ধীরে ধীরে সামাজিক দুর্বলতায় রূপ নিত।

এই বাস্তবতার মধ্যেই কোরআন সুদ সম্পর্কে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোরআন প্রথমেই সুদের কারিগরি সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেনি; বরং মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ন্যায়, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে পুনর্গঠনের আহবান জানিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুদকে এমন একটি লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সম্পদের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং দুর্বলকে আরো দুর্বল করে তুলতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সদকাকে বৃদ্ধি দান করেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৬)

আয়াতটির ভাষা গভীর তাৎপর্য বহন করে। এখানে বাহ্যিক হিসাবের পরিবর্তে সম্পদের প্রকৃত কল্যাণ ও স্থায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। মানুষের দৃষ্টিতে কোনো সম্পদ বাড়তে পারে, কিন্তু সেই বৃদ্ধি যদি সমাজে বৈষম্য, শোষণ কিংবা মানুষের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতাকে আরো কঠিন করে তোলে, তবে কোরআনের দৃষ্টিতে তাকে প্রকৃত সমৃদ্ধি বলা যায় না। বিপরীতে, মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা সম্পদ বাহ্যিক হিসাবে কমে গেলেও তার সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। কোরআনের এই দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামী অর্থনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে সামনে নিয়ে আসে। এখানে অর্থের মূল্য শুধু তার পরিমাণে নির্ধারিত হয় না; বরং সে অর্থ কিভাবে অর্জিত হলো, কিভাবে ব্যবহার করা হলো এবং সমাজে তার প্রভাব কী—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের আলোচনা তাই ইসলামে সম্পদের পরিমাণ দিয়ে নয়, সম্পদের চরিত্র দিয়ে শুরু হয়।

ইসলামী অর্থনীতির আলোচনায় সুদকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিধান হিসেবে দেখা হয় না। এটি এমন একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক দর্শনের অংশ, যেখানে সম্পদের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ভারসাম্যও সমান গুরুত্ব পায়। এ কারণেই ইসলাম সুদের বিকল্প হিসেবে কেবল নিষেধাজ্ঞা দেয়নি; বরং অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগ, ব্যবসা, জাকাত, সদকা, করজে হাসানা এবং সম্পদের সুষম সঞ্চালনের একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো উপস্থাপন করেছে।

সমসাময়িক ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম পথিকৃৎ ড. মুহাম্মদ ওমর চাপরা তাঁর Islam and the Economic Challenge গ্রন্থে লিখেছেন, একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাফল্য শুধু জাতীয় আয় বা উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না; বরং সেই ব্যবস্থা কতটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করেছে এবং বৈষম্য হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে—এসবও তার মূল্যায়নের অপরিহার্য মানদণ্ড। ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক দর্শনের সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গির গভীর সামঞ্জস্য আছে।

একইভাবে বিচারপতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী An Introduction to Islamic Finance গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইসলামে লাভের নৈতিক বৈধতা নির্ভর করে ঝুঁকি গ্রহণ ও দায়িত্ব বহনের ওপর। যে আয়ে ঝুঁকির অংশীদারত্ব নেই, অথচ লাভ পূর্বনির্ধারিত ও নিশ্চিত—ইসলাম সেই কাঠামোকে সমর্থন করে না। এখানেই সুদভিত্তিক ঋণ এবং ইসলামী অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থায়নের মৌলিক পার্থক্য।

এ কারণেই কোরআন সুদের বিষয়ে শুধু নৈতিক উপদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। অতঃপর যদি তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো। আর যদি তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৮-২৭৯)

আয়াতটির শেষাংশ—‘তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না’—এটি ইসলামী অর্থনীতির একটি চিরন্তন নীতিকে সংক্ষিপ্ত ভাষায় ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে ন্যায়, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মর্যাদা; কোনো পক্ষের দুর্বলতা অন্য পক্ষের স্থায়ী মুনাফার উপায়ে পরিণত হবে না।

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com