1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে দুই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ ৩ জন কারাগারে

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৯২ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় জালিয়াতি করে ভুয়া সন্তান সেজে দুই জন বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাতের ঘটনায় দুই মুক্তিযোদ্ধা নেতাসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দরগাপাশা ইউনিয়নের বাঘেরকোনা গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান (৬৩), সাবেক ডেপুটি কমান্ডার পাথারিয়া ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাধাকান্ত তালুকদার (৬৫) ও ভাতা আত্মসাতে সহায়তাকারী অপু পাল (৪০) কে। অপু পাল দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের নিত্যানন্দ পালের ছেলে।
সোমবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাগিব নুরের আদালতে ওই তিনজন হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে সিআইডি গত ১৬ মার্চ ওই তিনজনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (বর্তমানে শান্তিগঞ্জ) জোন-এ অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালত পরিদর্শক মো. বদরুল আলম তালুকদার বলেন,‘ দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ ওই তিন জনের বিরুদ্ধে সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। সোমবার তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের পরিমল পাল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন (ভারতীয় তালিকা নম্বর-২৪৪৩৯)। দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর তিনি ও তার দুই ভাই ভারতে চলে যান। বাংলাদেশে পরিমল পালের স্ত্রী, সন্তান কেউ নেই। কিন্তু দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরেশপুরের সাধন পালের ছেলে সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করেন। সন্তোষ পালের মা রেনু বালা পাল জীবিত থাকলেও উত্তরাধিকার সনদপত্রে মাকে সে মৃত দেখিয়ে অন্যের ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
একইভাবে তথ্য গোপন করে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা যতীন্দ্র কুমার দাসের ভাতা উত্তোলন করেন তার ভাতিজা বিধুভূষণ দাসের ছেলে নান্টু দাস। (যতীন্দ্র কুমার দাসের মুক্তিবার্তা লাল বহি নং-০৫০২০১০২৭১)। যদিও যতীন্দ্র কুমার অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু বিধুভূষণ দাসের ছেলে নান্টু কান্ত দাস তার ছেলে দাবি করে ভাতা উত্তোলন করেন।
ভুয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলকারী সন্তোষ পাল ও নান্টু দাসকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আতাউর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রাধাকান্ত তালুকদার ও কাবিলাখাই গ্রামের অপু পালের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় কাবিলাখাইয়ের পার্শ্ববর্তী সলফ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গেদা আলীর ছেলে ইসমাইল আলী চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি শান্তিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করে সুনামগঞ্জের সিআইডি। সিআইডি তদন্ত শেষে এই ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ভাতা আত্মসাতকারী সন্তোষ পাল ও নান্টু দাসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছিল সিআইডি। পরে তারা আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন পান।
সিআইডির এস.আই সুমন মালাকার বলেন, ‘সন্তোষ পাল ও নান্টু দাস মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়। অথচ তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর আগে এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com