বিশেষ প্রতিনিধি -পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এর প্রচেষ্টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে আজ মঙ্গলবার ঢাকা-সিলেট রোড চার লেনের মহাসড়কে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। আজ পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এর ৭৬তম জন্মদিন। জন্মদিনে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সিলেটবাসীকে এমন উপহার দেওয়ায় সিলেট জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন লাভ করার মধ্যে দিয়ে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সিলেটবাসীকে এমন সুখবর প্রদান করায় সিলেটের উন্নয়নে তাঁর অবদান মাইলফলক হয়ে থাকবেন বলে মনে করেন সিলেটবাসী।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জগন্নাথপুর টুয়েন্টি ফোর ডটকম কে বলেন, সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের এ স্বপ্ন ঢাকা সিলেট চারলেন সড়ক বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করতে পারছি এটা আমার জন্য সত্যি আনন্দের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক। তাঁর আন্তরিকতায় আমরা প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
এদিকে বহুল প্রতিক্ষীত এই খবর জগন্নাথপুরে আনন্দের বন্যা বইছে। তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলাবাসীর পক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এটি সত্যি সিলেটবাসীর জন্য আনন্দের খবর। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান স্যারের প্রচেষ্ঠায় চেষ্ঠায় প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করেছে।
প্রকল্পের সার সংক্ষেপ থেকে জানা যায়, প্রকল্পটির মোট খরচের মধ্যে সরকার দেবে ৩ হাজার ৬৭কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বাকি ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সড়কটি নির্মাণ করবে সরকার।
প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এই চার লেনের উভয় পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস, ৬টি রেলওভার ব্রিজ এবং ২৬ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেটের পীর হাবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত সড়কের মোট দূরত্ব ২২৩ দশমিক ২২৮ কিলোমিটার। কিন্তু ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত) ‘আশুগঞ্জ (নদীবন্দর)-সরাইল-দরখার-আখাউড়া (স্থলবন্দর) সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তিবায়ন হচ্ছে এবং ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরব সেতু চার লেনবিশিষ্ট হওয়ায় তা বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে সড়কের মোট ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার চার লেন করা হবে বলেও জানিয়েছে সূত্র।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী জাতীয় মহাসড়কের উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনের পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে চার লেনে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে এডিবির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে (এইচ-১ ও এইচ-২), বিমসটেক করিডোর (করিডোর-৩) এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোরের (এসএইচসি-৫) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সাথে যোগাযোগের জন্য ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সড়কটি উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাথে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান করিডোর হওয়ায় তা চার লেনে উন্নীত করা হয়।
Leave a Reply