সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ফুফাতো ভাইকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে মিতা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরী।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় আহত হওয়ার পর গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মিতা দিরাই পৌর শহরের নতুন বাগবাড়ী গ্রামের মৃত আকিক মিয়ার মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার কাছে মিতার গ্রামের বাসিন্দা ওলীর কিছু টাকা পাওনা ছিল। শুক্রবার ওই টাকা আদায় করতে উজ্জ্বল নতুন বাগবাড়ী গ্রামে যান। টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী টিটু মিয়া ও তার ছেলেরা উজ্জ্বলের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
উজ্জ্বলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে মিতাও ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় উজ্জ্বল মারধরের হাত থেকে রক্ষা পান। তবে বাড়িতে ফেরার পথে টিটু মিয়া ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম লাঠি দিয়ে মিতার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মিতাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কথা-কাটাকাটির পর এক কিশোরীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সূত্র-এশিয়া পোষ্ট