1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

গুনাহ হয়ে গেলে ফিরে আসুন আল্লাহর পথে

  • Update Time : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবনের চলার পথে অসাবধানতায় কিংবা প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ কখনো না কখনো গুনাহ করে বসে।

কিন্তু মুমিনের সৌন্দর্য হলো—সে গুনাহকে আঁকড়ে ধরে থাকে না; বরং ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়, লজ্জিত হয় এবং রবের দরবারে ফিরে আসে। গুনাহ হয়ে যাওয়া যতটা ভয়ংকর, গুনাহের পর তাওবা না করা তার চেয়েও ভয়ংকর। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের নিরাশ হতে নিষেধ করে বলেছেন, ‘হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
’ (সুরা : ‍জুমার, আয়াত : ৫৩) 

তাওবা কী?

‘তাওবা’ অর্থ ফিরে আসা। শরিয়তের পরিভাষায় গুনাহ পরিত্যাগ করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করাই তাওবা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

গুনাহের পর দুই রাকাত সালাত

গুনাহ হয়ে গেলে অজু করে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার একটি সুন্দর আমল।

এটিকে সাধারণভাবে সালাতুত তাওবা বলা হয়। হজরত আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দা গুনাহ করার পর উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে দুই রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে—আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবেন?’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৫, আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১) 

তাওবার দোয়া

তাওবার সময় আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার হলো,

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ : আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

তিনি চিরঞ্জীব, বিশ্বজগতের ধারক ও রক্ষক। আর আমি তাঁর কাছেই তাওবা করছি। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৭৭) 

তবে এই দোয়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়া যায়। তাওবার মূল বিষয় হলো অন্তরের অনুতাপ ও আল্লাহর দিকে সত্যিকার প্রত্যাবর্তন।

গুনাহের পর দেরি নয়

অনেক মানুষ মনে করে—‘আরেকটু পরে তাওবা করব।’ এ চিন্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ মানুষ জানে না তার জীবন কখন শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে; অবশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, ‘আমি এখন তাওবা করছি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৮)

তাই গুনাহ হয়ে গেলে আজ নয়, এখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।

তাওবা করে আবার গুনাহ হয়ে গেলে?

মানুষ দুর্বল। কেউ আন্তরিকভাবে তাওবা করার পরও যদি আবার ভুল করে বসে, তাহলে তাকে হতাশ হওয়া যাবে না। আবার তাওবা করতে হবে। তবে তাওবা যেন মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থাকে; গুনাহের পরিবেশ, সঙ্গ ও কারণ থেকে নিজেকে দূরে রাখার বাস্তব চেষ্টা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় অত্যন্ত আনন্দিত হন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৪৭)

তাওবার পর জীবন কেমন হবে

সত্যিকারের তাওবার প্রভাব মানুষের জীবনে দেখা যায়। তাওবাকারী ব্যক্তি—

১. গুনাহকে ঘৃণা করবে,
২. নেক আমলের প্রতি আগ্রহী হবে,
৩. আল্লাহকে বেশি স্মরণ করবে,
৪. মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং
৫. পুনরায় গুনাহে না ফেরার জন্য সতর্ক থাকবে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

গুনাহ মানুষের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনে, কিন্তু তাওবা সেই অন্ধকারের মধ্যে আলোর দরজা খুলে দেয়। একজন মানুষ যত বড় ভুলই করুক, যতক্ষণ তার জীবন আছে এবং তাওবার সুযোগ রয়েছে, ততক্ষণ আল্লাহর রহমত থেকে তার নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com