৫. পাপ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা : পাপ অন্তরকে কঠিন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলে। তাই ছোট-বড় সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা অন্তরে আল্লাহভীতি বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা একটি পাপ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর যদি সে পাপ থেকে বিরত হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং তওবা করে, তবে তার হৃদয় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। আর যদি সে পুনরায় পাপে লিপ্ত হয়, তাহলে সেই কালো দাগ আরও বাড়তে থাকে, এমনকি এটি তার সমগ্র হৃদয়কে ঢেকে ফেলে। এটাই সেই ‘রান’ (মরিচা বা আবরণ), যার কথা আল্লাহ (সুরা মুতাফ্ফিফিনে) বলেছেন—‘কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৩৪)
৬. আল্লাহভীরু মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ : মানুষ তার সঙ্গীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। নেককার ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করলে তাদের উত্তম চরিত্র ও আমল নিজের মধ্যেও প্রভাব ফেলে। তাই আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জন করতে চাইলে সৎ ও ধার্মিক মানুষের সান্নিধ্য গ্রহণ করা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর আদর্শ ও জীবনপদ্ধতির অনুসারী হয়ে থাকে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩)
৭. তওবা ও ইস্তিগফার : তওবা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর প্রতি বিনয়ী করে তোলে। বারবার তওবা করলে আল্লাহর সামনে নিজের দুর্বলতার উপলব্ধি তৈরি হয়, যা আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যেন তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩১)
৮. আল্লাহর নেয়ামত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা : আল্লাহর নেয়ামত অপরিসীম। কেউ যখন সেই নেয়ামত, অনুগ্রহ ও দানের কথা চিন্তা করবে, তখন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও জবাবদিহির অনুভূতি সৃষ্টি হবে। এর ফলে অন্তরে জাগ্রত হবে আল্লাহভীতির মনোভাব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে চাও, তবে তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৪)
৯. নফল ইবাদতের প্রতি গুরুত্বারোপ : নফল নামাজ, রোজা, তাসবিহ ও জিকির অন্তরকে জীবন্ত রাখে। এগুলো বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে এবং এর মাধ্যমে তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)
১০. নিজের আমলের হিসাব গ্রহণ : প্রতিদিন নিজের কাজের হিসাব নেওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। নিজের ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করলে সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে দৃঢ় হয়।আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে আগামী দিনের জন্য সে কী প্রেরণ করেছে।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)
আল্লাহভীতি কোনো জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। এটি অর্জন করতে হয় ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে। যে হৃদয় আল্লাহভীতিতে আলোকিত হয়, সে হৃদয়ই দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা অর্জন করে।
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ