নবী-রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও আমরা সম্পদ ও দারিদ্র্যের বিভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। কেউ ছিলেন সচ্ছল, কেউ ছিলেন অভাবগ্রস্ত। কিন্তু সম্পদ তাদের মর্যাদার মাপকাঠি ছিল না। প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি ছিল ঈমান, তাকওয়া ও সৎকর্ম। তাই ধনী ব্যক্তি যেন সম্পদের কারণে অহংকার না করেন এবং দরিদ্র ব্যক্তি যেন অভাবের কারণে নিজেকে অপমানিত মনে না করেন। আল্লাহর কাছে উভয়ের মূল্যায়ন হবে তাদের ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে। পৃথিবীর প্রচলিত মাপকাঠিতে অর্থ-সম্পদকে অনেক সময় সফলতার প্রতীক মনে করা হয়। কিন্তু আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় সম্পদের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমল দিয়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
আল্লাহ তাআলার ফয়সালার প্রতিটি রহস্য মানুষ সবসময় বুঝতে পারে না। কখনো যে বিষয়টিকে সে নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করে, তাতে অকল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে; আবার যে বিষয়টি তাকে কষ্ট দেয়, তার মধ্যেই থাকতে পারে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো চেষ্টা করা, হালাল পথ অবলম্বন করা, বিপদে সবর করা, নেয়ামতে শোকর করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর হিকমতের ওপর আস্থা রাখা। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন। সৌজন্যে কালের কণ্ঠ