স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পল্লীতে বোরো জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মুজিবুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগেরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই মতিউর রহমান (৫০) সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে নিহত হন।
নিহতদের বাড়ি উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (চন্ডি হেদায়েতপুর) গ্রামে।
সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে আটক করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো পাঠিয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, পীরেরগাঁও গ্রামের আবুল কাসেম( ৪৫) তাঁর স্ত্রী ছায়ারুল নেছা (৪০), সেবুল মিয়ার স্ত্রী সেফালী বেগম (৩৫) ও জামাল মিয়ার স্ত্রী বাহারুন বেগম ( ৪৫)।
জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আটক ৪জনকে আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে পীরেরগাঁও গ্রামের আরব আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে একই গ্রামের আছির উল্লাহর ছেলে আবুল কাশেমের জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরই জেরে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আলমগীরের পক্ষের কৃষক মতিউর রহমান প্রতিপক্ষের ছুলফির আঘাতে বুকে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মতিউরকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মতিউর রহমানের পক্ষের মুজিবুর (৩৮) ও আতাউর (৫০) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজিবুর রহমান মারা যান। এদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে তাৎক্ষনিকভাবে আটক করে পুলিশ।