পৃথিবীর দিন-রাতের আবর্তন, সূর্যের আলো ও তাপের তারতম্য, বৃষ্টিপাত, গাছপালার সজীবতা এবং প্রকৃতির রূপবদল—সব কিছুই এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অধীন, যার পেছনে রয়েছে মহান স্রষ্টার অপার মহিমা। আল্লাহ বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি।’ (সুরা : রূম, আয়াত : ২২)
পৃথিবীতে বৃষ্টিপাত মানুষের জীবন, কৃষি, প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কখনো দীর্ঘ খরায় মানুষ যখন বৃষ্টির প্রত্যাশায় থাকে, তখন বৃষ্টি তাদের জীবনে স্বস্তি নিয়ে আসে।
ঋতুর পরিবর্তন মানুষকে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখায় না; বরং জীবন সম্পর্কে গভীর কিছু শিক্ষা দেয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরম চিরস্থায়ী নয়, তেমনি শীতের তীব্রতাও একসময় কেটে যায়।
প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আকাশে মেঘ বা প্রবল বাতাস দেখা দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় উদ্বেগের ছাপ ফুটে উঠত। বৃষ্টি হলে তিনি আনন্দিত হতেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর আশঙ্কা হতো, এ পরিস্থিতি তাঁর উম্মতের ওপর কোনো বিপর্যয় নিয়ে আসে কি না। আর বৃষ্টি হলে তিনি বলতেন, এটি আল্লাহর রহমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৯৯)
প্রতিটি ঋতু মানুষের সামনে ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজন ও দায়িত্ব নিয়ে আসে। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরমে মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো, বর্ষায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা শীতে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে গরম কাপড় বিতরণ করা—এসব মানবিক কাজ ইসলামের উদার শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৫)
তাই প্রকৃতির পরিবর্তন তখনই আমাদের জীবনে প্রকৃত তাৎপর্য বহন করবে, যখন তা আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করবে, আমলকে সুন্দর করবে এবং মানবিক গুণাবলিকে সমৃদ্ধ করবে। ঋতু যেমন পৃথিবীকে নতুন রূপে সাজায়, তেমনি আমাদেরও উচিত প্রতিটি নতুন সময়কে আত্মশুদ্ধি, নেক আমল ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। আল্লাহ বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ