বিশেষ প্রতিনিধি::
হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের দুই দফা সময় গতকাল রোববার শেষ গেলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এখনও কয়েকটি প্রকল্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে হাওরের ফসল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, নলুয়া হাওরের পোল্ডার-১ এর আওতাধীন ১, ৮ ও ১২ নম্বর প্রকলল্প এখনও ঝুঁকির মধ্যে আছে। এছাড়া ৩৩ নম্বর প্রকল্পের দায়সারাভাবে কাজ হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নলুয়া হাওরের পোল্ডার -১ এর আওতাধীন ১ নম্বর প্রকল্পের তেলিবাঁধা নামকস্থানে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি তোলে বাঁধে কাজ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ঘেঁষে আছে পুরোনো খালের বিশাল একটি গর্ত। স্থানীয় কৃষকদের দাবি প্রকল্পটি ঝুঁকির মুখে আছে। প্রকল্পের পাশে নদী প্রবাহিত হওয়াতে পানির চাপের শঙ্কা রয়েছে। ৮ নম্বর প্রকল্পের হালেয়া নামকস্থানে একটি গর্ত থাকায় প্রকল্পটি মারাত্মক ঝুকিঁ হতে পারে। এই প্রকল্পটি ২০১৭ সালে ভেঙে নলুয়া হাওরের ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছিল। ১২ নমম্পর প্রকল্পের কিছু অংশে এখনও মাটি কাটার কাজ শেষ হয়নি। তবে কাজ চলমান করেছে।
১ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি এখলাছুর রহমান তালুকদার বলেন, নীতিমালা অনুয়ায়ী বাঁধের কাজ করা হয়েছে।
৮ নং প্রকল্পের সভাপতি আবুল কয়েছ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টকে বারবার বলে আসছি। দ্রæত এখানে কাজ না হলে হাওরের ফসল ঝুঁকির মুখে পড়বে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির জগন্নাথপুরের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল দ্বিতীয় দফার বাড়ানো কাজের সময়সীমা শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, এখনও কয়েকটি প্রকল্পে ঝুঁকি আছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য আহবান জানান তিনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুত্রে জানা যায়, এবছর জগন্নাথপুরে ৪৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধের কাজ হচ্ছে। গত ১৫ ডিসেম্বর হাওরে বাঁধের কাজ শুরু হয়। ২৮ ফেব্রæয়ারি কাজের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়াতে গত ১ মার্চ থেকে আরো ১৫ দিনের বর্ধিত সময় বাড়ানো হয়। গতকাল দ্বিতীয় দফার বাড়ানো সময় শেষ হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, ৯৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ৮ নম্বর প্রকল্পের গর্ত ভরাটের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১২ নম্বর প্রকল্পের কাজ আজ শেষ হবে।
Leave a Reply