জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
ইমাম রাজি (রহ.) ইবাদতের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ইবাদত হলো প্রত্যেক এমন কথা ও কাজ, যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং তিনি যাতে সন্তুষ্ট হন। তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য।’ (তাফসিরে রাজি : ৩২/২৪৩)
উল্লিখিত সংজ্ঞার আলোকে ইবাদতকে চার ভাগে বিভক্ত করা যায়। তা হলো—
১. অপ্রকাশ্য কথা : অপ্রকাশ্য কথা হলো ঈমান বা বিশ্বাস। বিশ্বাস অন্তরের ইবাদত। ইসলাম যেসব বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলেছে, সেগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা অন্তরের ইবাদত।
২. প্রকাশ্য কথা : প্রকাশ্য কথার দ্বারা উদ্দেশ্য মুখে ঈমানের স্বীকৃতি দেওয়া। আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা, সত্যের পথে আহ্বান, সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজ থেকে বারণ করা ইত্যাদি মুখের ইবাদত হিসেবে গণ্য।
অপ্রকাশ্য কাজ : অপ্রকাশ্য কাজ দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর ভয়, তাঁর প্রতি আশাবাদ পোষণ, ঈমান-ইবাদতে নিষ্ঠা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা ইত্যাদি।
৪. প্রকাশ্য কাজ : প্রকাশ্য কাজ দ্বারা উদ্দেশ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। বাহ্যিক যে আমলকে মানুষ সাধারণ ইবাদত মনে করে। যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি।
প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, নিয়তের ওপর ভিত্তি করে মানুষের সব কথা ও কাজ ইবাদতে পরিণত হতে পারে। ইবাদত শুধু কয়েকটি আচার পালন করার নাম নয়। শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.) বলেন, ‘পৃথিবীর সব মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান কার্যকর এমন) ব্যক্তির জন্য এক আল্লাহর ইবাদত করা। …তাদের প্রার্থনা, তাদের ভয়, তাদের আশা, তাদের সাহায্য প্রার্থনা, তাদের রোজা, তাদের নামাজসহ সব ইবাদত আল্লাহর জন্য বিশেষায়িত করা। ইবাদত আল্লাহর অধিকার। আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করা বৈধ নয়। ইবাদত হলো—যে কথা ও কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রাকশ্য। সুতরাং নামাজ ইবাদত, রোজা ইবাদত, সদকা ইবাদত, হজ ইবাদত, আল্লাহর ভয় ইবাদত, আল্লাহর প্রতি আশাবাদ ইবাদত, মানত ইবাদত, কোরবানি ইবাদত।’ (মাউজুউল ফাতাওয়া : ২৮/১৮০)আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া।
সৌজন্যে কালের কণ্ঠ