1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

ভূমধ্যসাগরে ডুবে শেষ নিশানের ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন

  • Update Time : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নে ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিল নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর তরুণ নজরুল ইসলাম নিশান (২২)। উদ্দেশ্য ছিল ইতালিতে গিয়ে একটা স্বচ্ছল ভবিষ্যৎ গড়া, পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ডুবে আছে ভূমধ্যসাগরের গভীর জলে। পাড়ি দেওয়ার পথে একটি ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হন তিনি। ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি তার।

নিখোঁজ নজরুল ইসলাম নিশান সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রেহান উদ্দিন কেরানীর বাড়ির বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ ও নুর নাহার দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো।

জানা গেছে, পরিবারের অভাব ঘোচাতে এক বছর দুই মাস আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমান। সেখান থেকে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। গত ২ জুলাই রাতে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় নিশানের। সবাইকে দোয়া করতে বলেন, জানিয়ে দেন যে তিনি ট্রলারে করে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ।

ছেলের খোঁজ না পেয়ে চোখের পানি ফুরিয়েছে নিশানের মা নুর নাহারের। কাঁদতে কাঁদতে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। কাঁপা কণ্ঠে বলেন, আজ ১১ দিন আমার ছেলের কোনো খবর পাই না। আমি আর পারছি না। আল্লাহ আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। আমি ড. ইউনূস স্যারের হস্তক্ষেপ চাই।

নিশানের বাবা নুর মোহাম্মদ বলেন, আমার ছেলে কোথায় আছে, বাঁচলো না মরল কিছুই জানি না। যে ট্রলারে ছিল, তাতে ৬০ জন উঠেছিল। কেউ কেউ উদ্ধার হলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ। আমাদের এলাকার আরেক তরুণ হাছানও ছিল তার সঙ্গে—সেও নিখোঁজ। আমরা দোয়া আর অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না। আমার ছেলের জীবন ভিক্ষা চাই।

এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া। মসজিদে, মাদরাসায় তার জন্য চলছে দোয়া। নিশানের মামাতো ভাই মো. তারেক ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুরো বাড়িতে একরকম শোকাবহ পরিবেশ। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। সরকারের উচিত দ্রুত নিখোঁজদের খোঁজ নেওয়া ও উদ্ধার প্রক্রিয়া চালানো।”

নোয়াখালী জেলা ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম বলেন, নিশানের পরিবারের কাছ থেকে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছেন তারা। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে বহু বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। দালালচক্রের প্রতারণা, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ও রাষ্ট্রীয় নজরদারির ঘাটতি এই মৃত্যুর মিছিলকে বাড়িয়ে তুলেছে। এখনই সময় সচেতন হওয়ার। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবখানে মানবপাচারের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। সূত্র ঢাকা পোস্ট

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com