জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
জমি নিয়ে মারামারির মামলায় গভীর রাতে এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে তাঁর ছয় মাস বয়সী যমজ শিশুসহ থানায় নিয়ে যায় নান্দাইল থানার পুলিশ। পরদিন শিশু দুটিসহ ওই নারীর ছবি থানার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়। এ ছবি ব্যবহার করে বাদীপক্ষও নানা কুৎসা ছড়ায়। পুলিশের এমন তৎপরতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই নারী। থানার ওসি বলছেন, এটা একটা মিসটেক (ভুল) হয়ে গেছে।
নান্দাইল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিমি দূরের চন্ডীপাশা ইউনিয়নের নিজ বানাইল গ্রামে ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুলাই। সম্প্রতি ওই ছবি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গতকাল শনিবার ওই গ্রামে গিয়ে কথা হয় গৃহবধূর সঙ্গে। গোটা ঘটনায় লজ্জা অপমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
এ গৃহবধূ বলেন, জমি নিয়ে মারামারির সময় ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। তবু তাঁকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে দুই অবুঝ শিশুসহ তাঁর ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। এর পর পোস্ট দিয়েছে বাদীপক্ষ। এতে তাঁর মানসম্মান শেষ হয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি, পাড়া প্রতিবেশীসহ আত্মীয়-স্বজনের সামনে যেতেও লজ্জা লাগছে। তিনি বলেন, ছবিটা ফেসবুকে না দিলে কী এমন হতো। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এর বিচার কে করবে?
জমি নিয়ে বিরোধ থেকে মারামারির জেরে গ্রামের জিয়াউর রহমান তাঁর ভাতিজা ও তাঁর স্ত্রীর নামে আদালতে মামলাটি করেছিলেন। মামলায় প্রথমবার আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন পান গৃহবধূ। কিন্তু শিশু দুটি অসুস্থ থাকায় দ্বিতীয়বার হাজিরা দিতে পারেননি। এতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরই থানার এসআই আসাদ ৯ জুলাই গভীর রাতে গিয়ে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে তাঁর যমজ শিশুসহ থানায় নিয়ে যান। পরদিন থানার ফেসবুক আইডিতে অন্য আসামিদের সঙ্গে দুই শিশুসহ ওই নারীর ছবি পোস্ট দেওয়া হয়। এ আইডিতে থানার দৈনন্দিন পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়।
সূত্র-সমকাল