স্টাফ রিপোর্টার::
পূর্ববিরোধের জেরে সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা (৫০) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও জোরপূর্বক মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বিকেলে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সোনা মিয়া ওরফে সোনাই পাগলা জেলার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের বাসিন্দা। ‘সোনাই পাগলার টংঘর’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সেখানে তিনি নানা ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. মাখন মিয়া। তিনি রানীগঞ্জ এলাকার বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রানীগঞ্জ বাজারে পার্লারের ব্যবসা করেন এবং বাজারের ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে আছেন। খাতুন কমপ্লেক্সটি তার ফুফাতো ভাই একই গ্রামের শাহ গোলাপ মিয়ার। এছাড়াও তিনি বাউলের আসরের সক্রিয়কর্মী।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাখন মিয়া কাঁচি দিয়ে সোনা মিয়ার মেহেদি রঙ করা লম্বা চুল কেটে দিচ্ছেন। সোনা মিয়া মাখন মিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে দৌঁড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে ধরে চুল কেটে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ভিডিওতে সোনা মিয়াকে বলতে শোনা যায়, মাখন ভাই, দয়া করেন… আমারে ছাইড়া দেইন। এ সময় তাকে গালাগাল করতেও শোনা যায়। একপর্যায়ে সোনা মিয়া বলেন, এক বছর আগের ঘটনাতো শেষ অইছে ওই সময়।
ঘটনার সময় ছেঁড়া গেঞ্জি দেখিয়ে সোনা মিয়া স্থানীয় লোকজনকে বলেন, আপনারা দেখইন, আমিতো কইরাম দেইক্কা দিমু, একদিন ইতা শক্তি আমিও খাটাইমু যা। এক বছর আগে তার সাথে একটা ঘটনা করছিলাম। চুল কাটা শেষ পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আমার বাড়ি দিরাই, এর হিসাব পাইবে তুই।
পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সোনা মিয়া ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, রানীগঞ্জের মাখন গুন্ডা আমার চুল কাইট্টা দিছে।
তিনি বলেন, এক বছর আগে দিরাইয়ে মাখনের লগে একটা বিষয় অইছিল, মুরব্বীরা শেষ কইরা দিছঅইছন। আমি রানীগঞ্জ বাজারে টমটম থেকে নামার পর চা খাওয়ার সময় মাখন আমার চুল কাইট্টা দিছে।
ঘটনার দায় স্বীকার করে মাখন মিয়া বলেন, সোনা মিয়ার সঙ্গে তার আগে পরিচয় ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসের এক রাতে সোনা মিয়া তাকে দিরাইয়ে দাওয়াত করে নিয়ে যান। সেখানে সোনা মিয়া ও আরও ৫–৭ জন তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ঘটনাটি আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছে। বহুদিন পর আজ তাকে পেয়েছিলাম। তবে তার সঙ্গে যে আচরণ করেছি, সেটা ঠিক হয়নি। রাগের মাথায় এসব করেছি। রাগ কমার পর বুঝতে পেরেছি, তাকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে আমি অপরাধ করেছি। আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন সে যদি আইনগত ব্যবস্থা নেয়, নেবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। থানায় বা পুলিশকে কেউ জানায়নি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।