বিশেষ প্রতিনিধি::
ধান পাকার আগেই ফসলের মাঠে ইঁদুরের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জগন্নাথপুরের কৃষকরা। প্রতিটি হাওরে ইঁদুরের মারাত্মক উপদ্রব বেড়ে গেছে। ফসল নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নলুয়া হাওর, মইয়ার হাওর, পিংলার হাওরসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের বোরো ক্ষেতে হঠাৎ করে ইঁদুরের আক্রমণ বেড়ে গেছে। ইঁদুরগুলো জমির ধান গাছের গোড়া দাঁত দিয়ে কেটে দিচ্ছে। ফলে কৃষকের কষ্টার্জিত ফলায়িত ফসল পাকার আগেই নষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব জমিতে আর ধান পাওয়া যাবে না বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নলুয়া হাওরের ভবানিপুর, কবিরপুর, ভুরাখালি, দাসগাঁও, হরিনাকান্দি, নাথেরচাতসহ হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও উপজেলার মইয়ার হাওর, পিংলার হাওর, ঘোষগাঁও গ্রামের হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় ১৫টি হাওরেও ইঁদুরের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
নলুয়া হাওরের হরিকাকান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুল কাহার জানান, এবার ১০ কেদার জমিতে বোরো ফসল আবাদ করেছি। ধান পাকার আগেই ইঁদুরের আক্রমণে ৬ কেদার জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ওই গ্রামের আরেক কৃষক রাশিদ উল্লা জানান, তাঁর ১২ কেদার জমির মধ্যে ৪ কেদার ফসল ইঁদুরের অত্যাচারে তছনছ হয়ে গেছে। তিনি জানান, আর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাবে। কিন্তুু ফসল পাকার আগেই ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে ইঁদুর নিধনে এখনও কোন সহায়তা পাননি বলে তিনি জানিয়েছেন।
মইয়ার হাওরের কৃষক বাবু চৌধুরী জানান, মইয়ার হাওরের হলদিপুর এলাকায় ১২ কেদার জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। ইঁদুরের উৎপাতে ৩ কেদার জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে।
মইয়ার হাওরের পাশের বাদাউড়া এলাকার কৃষক কামাল হোসেন জানান, অনেক কষ্ট করে বোরো আবাদ করেছি। আর কয়েকদিন পরই জমির ধান পেকে যাবে। ধান পাকার আগ মুহূর্তে ইঁদুর ধান গাছের গোছা (গোড়া) কেটে ফসল বিনষ্ট করে দিচ্ছে। ইঁদুরের আক্রমণে তিন কেদার জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এই কৃষক।
হাওর বাঁচাও জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, সরকারি নীতিমালা অনুয়ায়ী হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজের সময় সীমা ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। এরমধ্যে ফসলের ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণে কৃষকরা ফসল নিয়ে মহা শঙ্কিত।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, ঢলের পানির সঙ্গে আসা ইঁদুরের উপদ্রব আছে হাওরে। আমরা কৃষকদের ইঁদুর নিধনের ঔষধ দিচ্ছি। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এখনও নির্ণয় করা হয়নি। তিনি বলেন, এবার নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় ১৫টি হাওরে ২০ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
Leave a Reply