স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বোরো জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির জানাজা নামাজ একই সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মঙ্গলবার উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (চন্ডি হেদায়েতপুর) গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে সুলফির আঘাতে নিহত হন মতিউর রহমান (৫০)। পরদিন অর্থাৎ বুধবার সংঘর্ষে নিহত মতিউর রহমানের চাচাতো ভাই আহত মুজিবুর রহমান (৪০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নিহত দুই ভাইয়ের মরদেহ এলাকায় এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে পুরো গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় উপস্থিত শোকার্ত মানুষকে বলতে শোনা যায়, ‘আহা রে… সামান্য মাছ ধরা আর পানি সেচ নিয়ে ঝরে গেল দুটি তাজা প্রাণ!’ পরে বাদ মাগরিব গ্রামের পীরের বাড়িতে দুই ভাইয়ের জানাজার নামাজ একই সময়ে একসাথে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষে নিহত দুই ব্যক্তির ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে পীরেরগাঁও গ্রামের আরব আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে একই গ্রামের আছির উল্লাহর ছেলে আবুল কাশেমের জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরই জেরে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আলমগীরের পক্ষের কৃষক মতিউর রহমান প্রতিপক্ষের ছুলফির আঘাতে বুকে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মতিউরকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মতিউর রহমানের পক্ষের মুজিবুর (৩৮) ও আতাউর (৫০) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজিবুর রহমান মারা যান। এদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে তাৎক্ষনিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।