1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেট স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি, বাড়ছে তেলের দাম সিলেটে পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ আটক স্বামী জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

ধর্মপাশায় ৩০ লাখ টাকার ফসল রক্ষায় খরচ হচ্ছে ৩ কোটি টাকা

  • Update Time : শনিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৬৩৩ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার তাল হাওরের কম্পার্টমেন্টাল বাঁধের বাইরে ২৩০ হেক্টর জমির ফসল অর্থাৎ ৩০ লাখ টাকার বোরো ধান রক্ষার জন্য ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। পাউবো’র ধর্মপাশার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই বাঁধটি দেবার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে এই বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার তাল হাওরের ৬ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমির বাইরে বর্ধিতাংশে ২৩০ হেক্টর জমিতে বোরো’র আবাদ হয়। এই জমি মুলত নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুড়, মান্দারবাড়ি, চাঁনপুর, মান্দাউড়া গ্রামের কৃষকদের। এই জমি চাষাবাদ হলে এবং ঠিকভাবে ফসল হলে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বোরো ধান উৎপাদন হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীলরা।
মোহনগঞ্জের মান্দাউড়া গ্রামের একজন কৃষক নাম না ছাপার শর্ত দিয়ে বলেন,‘হাওরের এই ২৩০ হেক্টর জমি রক্ষার জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। তাতে প্রভাবশালীদের পকেটস্থ হবে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। ধান রক্ষা হয় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা’র। আবার শয়তানখালি নামের একটি জলমহালের ইজারাদার দাবি করেন এই অংশে বাঁধ দিলে তাদের মৎস্য উৎপাদনে ক্ষতি হয়। অথচ. ওই জলমহাল ইজারা দিলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব পায় সরকার। মাছ হয় দেড়-দুই কোটি টাকার।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদেকুর রহমান বলেন,‘হাওরের এই অংশটি আমার ওয়ার্ডে পড়লেও জমির মালিক নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের গাগলাজুর, মান্দারবাড়ি, চাঁনপুর ও মান্দাউড়ার কৃষকরা। আমাদের ওয়ার্ডের কৃষকদের জমি ওখানে একেবারেই কম। এই বাঁধে শুনেছি এবার ১৩ টি
পিআইসি কাজ করছে। এই কাজে কৃষকদের চেয়ে প্রভাবশালীদেরই লাভ বেশি।’ প্রভাবশালী কারা এই উত্তর দিতে অপারগতা জানালেন তিনি।
ধর্মপাশার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান জানালেন, চন্দ্র সোনার তাল হাওরে জমি রয়েছে ছয় হাজার ছয়’শ হেক্টর। এই হাওর রক্ষার জন্য ছাদরা ডুবাইল বাঁধ হচ্ছে, যাকে বলা হয় চন্দ্র সোনার তাল কম্পার্টমেন্টাল ডাইক। এর বাইরে আরেকটি অংশ আছে, যেখানে ছয়শ’ হেক্টরের মতো জমি থাকলেও চাষাবাদ হয় ২৩০ হেক্টর। ওখানে একটি জলমহাল আছে, যার নাম শয়তানখালি। বাঁধ হলে ওই জলমহালের ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন ইজারাদার।
তিনি বলেন,‘এই অবস্থায় আমরা চেয়েছিলাম ওখানে বাঁধ না দিতে। গত নয় ডিসেম্বর এ ব্যাপারে লিখিত প্রতিবেদন জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করেছিলাম। জেলা কমিটিও আমাদের প্রস্তাবে একমত হয়েছিলেন।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন,‘চন্দ্র সোনার তাল হাওরের বর্ধিতাংশে বাঁধ না দেবার জন্য ধর্মপাশা উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির প্রস্তাবে জেলা কমিটিও ঐক্যমত পোষণ করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের দাবি এবং অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওখানে বাঁধ করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ি ওখানে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com