1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণ নারীর প্রতি চরম অবমাননা, এর শাস্তি স্বয়ং আল্লাহ কঠোর করেছেন

  • Update Time : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৫৩ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

রাশিদ রিয়াজ : স্বামী-সন্তানের সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসা এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। একাত্তর টিভি

ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধু। তিনি জানান, স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তিন ব্যক্তি। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব। নিউজ বাংলা
কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, কক্সবাজার হোটেল- মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের রিসোর্ট থেকে বুধবার রাত দেড়টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে এর আগেও অহরহ ঘটেছে। যারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন তারাও মাঝে মাঝে ধর্ষক হয়ে উঠছেন। আমরা এসব ঘটনাকে বিক্ষিপ্ত ঘটনা বলে এবং আইনের শাসন একদিন প্রতিষ্ঠার অযুত সংকল্প থেকে নিশ্চুপ হয়ে থাকি। সমাজে এধরনের ঘটনা ঘটলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসন্মানের ভয়ে চুপচাপ বা বিষয়টির মীমাংসা করে ফেলি। দোষী ব্যক্তিরা দ্রুত ও কার্যকর বিচারের মধ্যে দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় না। আবার পায়। যারা ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী তারা বা যাদের টাকা আছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিলম্ব হলেও অপরাধির শাস্তি আদায় করে ছাড়েন। সমাজে তাদের সংখ্যা নগন্য। বরং অপরাধীরা পার পেয়ে যায় আমাদের মৌনতা ও সোচ্চার না হবার কারণে। এবং গুনিতক হারে এধরনের অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে এসে শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে ওঠেন। বিকেলে যান সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে ওই নারীর ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তাকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তারা।

এরপর তাকে জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে নিয়ে আরেক দফা ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে রুম বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ধর্ষকরা। পরে ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ কল করেন। পুলিশ তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়। পরে র‌্যাব এসে তাকে উদ্ধার করে। তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয় পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে স্বামী-সন্তান ও গৃহবধূকে উদ্ধার করি। ছায়া তদন্ত শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করেছি। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।’ কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।’

দেখা যাক এধরনের ঘৃণ্যতম অপরাধ সম্পর্কে কোরআন কি বলে। আমরা সবাই জানি ধর্ষক যদি বিবাহিত হয় তাহলে তাকে প্রকাশ্যে পাথর ছুঁড়ে হত্যা আর অবিবাহিত হলে ১শ দোররা মারার কথা বলা হয়েছে ধর্মে। সমস্যা হচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা এতটাই মশগুল বা মানবাধিকার ও নারীবাদি নেত্রীরা এটা পছন্দ করেন না। সন্দেহাতীতভাবে আগে প্রমাণিত হতে হবে ধর্ষণের ঘটনা। এটিও বলা হয়েছে ধর্ম ও প্রচলিত আইনে। প্রচলিত আইনে ধর্ষণের পর নির্যাতিতার মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অতি নগন্য। সুরা বাকারার ১৭৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এই শাস্তির কারণ এ জন্য যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাজেল করেছেন, কিন্তু যারা কিতাবের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছে, তারা সত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে খুবই কঠোর।’ (২:১৭৬)

কোরআনে দুর্নীতিপরায়ণ পণ্ডিত বা জ্ঞান পাপীদের মাধ্যমে সত্য গোপন করার পরিণাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পণ্ডিতদের এই বিশেষ পাপের ফলে তারা হেদায়াত বা মুক্তির আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে বিভ্রান্তি ও লাঞ্চনার মধ্যে নিমজ্জিত হয়। শুধু জ্ঞান থাকলেই মানুষ সৌভাগ্যের অধিকারী হয় না বরং তা একটি জাতি ও প্রজন্মের বিভ্রান্তিরও কারণ হয়। অসৎ পণ্ডিতরা শুধু যে নিজেদেরকেই মুক্তির পথ থেকে বঞ্চিত করে তা নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু মানুষের বিভ্রান্তিরও কারণ হয় তারা।
তাই স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের পণ্ডিতদের শাস্তি শুধু তাদের নিজেদের বিভ্রান্তির সাথে সম্পর্কিত নয়, অর্থাৎ বহু লোকের বিভ্রান্তির দোষে দোষী বলে তাদেরকে এইসব মানুষকে বিভ্রান্ত করার শাস্তি পেতে হবে। আর এ ধরনের শাস্তি কতই না ভয়াবহ। ১৭৬ নম্বর আয়াতে সত্য বিকৃতি বা গোপন করাকে সত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে উৎসারিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এইসব মানুষ সত্যকে জেনে শুনেও মেনে নিতে প্রস্তুত হয়নি বরং সত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে এবং বিভিন্ন পন্থায় মানুষের মধ্যে সত্য সম্পর্কে সন্দেহ ও বিভেদ সৃষ্টি করেছে। আরেকটি তাফসিরে আয়াতটি সম্পর্কে বলা হয়েছে,‘এসব কিছুই ঘটার কারণ হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তো যথার্থ সত্য অনুযায়ী কিতাব নাযিল করেছিলেন কিন্তু যারা কিতাবে মতবিরোধ উদ্ভাবন করেছে তারা নিজেদের বিরোধের ক্ষেত্রে সত্য থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছে।’ এর ঠিক পরের আয়াতেই বলা হয়েছে, ‘ তোমাদের মুখ পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে ফিরাবার মধ্যে কোন পুণ্য নেই। বরং সৎকাজ হচ্ছে এই যে, মানুষ আল্লাহ, কিয়ামতের দিন, ফেরেশতা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব ও নবীদেরকে মনে প্রাণে মেনে নেবে এবং আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় ধন-সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন, এতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্য প্রার্থী ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য ব্যয় করবে। আর নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দান করবে। যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করবে এবং বিপদে-অনটনে ও হকবাতিলের সংগ্রামে সবর করবে তারাই সৎ ও সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই মুত্তাকী।

এবং এর পরের অর্থাৎ সুরা বাকারার ১৭৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য হত্যার ব্যাপারে কিসাসের বিধান লিখে দেয়া হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি হত্যা করে থাকলে তার বদলায় ঐ স্বাধীন ব্যক্তিকেই হত্যা করা হবে, দাস হত্যাকারী হলে ঐ দাসকেই হত্যা করা হবে, আর নারী এই অপরাধ সংঘটিত করলে সেই নারীকে হত্যা করেই এর কিসাস নেয়া হবে। তবে কোন হত্যাকারীর সাথে তার ভাই যদি কিছু কোমল ব্যবহার করতে প্রস্তুত হয়, তাহলে প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী রক্তপণ দানের ব্যবস্থা হওয়া উচিত এবং সততার সঙ্গে রক্তপণ আদায় করা হত্যাকারীর জন্য অপরিহার্য। এটা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে দন্ড হ্রাস ও অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করবে তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ এও বলেছেন, ‘ হে বুদ্ধি বিবেক সম্পন্ন লোকেরা! তোমাদের জন্য কিসাসের মধ্যে জীবন রয়েছে। আশা করা যায়, তোমরা এই আইনের বিরুদ্ধাচরণ করার ব্যাপারে সতর্ক হবে।

আমি ধর্মের এসব নির্দেশনা নিয়ে এসব কথা বললাম আমাদের নিশ্চুপ থাকা, সমাজে অপরাধ হলে তা নিজের ঘাড়ে না পড়লে সোচ্চার না হওয়ার মত অবিবেচনার বিষয়টি চিন্তা করার জন্যে। প্রচলিত আইন প্রণয়নে আইন প্রণেতারাও এসব বিষয় সার্বিকভাবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অপরাধীরা বারবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়।

আবার ধর্মের কথা বলে এত কঠিন অপরাধ ও জটিল সব বিচারের এত সহজ সরল সমাধান আশা আমি করছি না। কিন্তু অপরাধীদের জানিয়ে দিতে হবে ধর্ষণ নারীর প্রতি চরম অবমাননা এবং এর শাস্তি স্বয়ং আল্লাহতালাহ কঠোর করে দিয়েছেন। এখানে যতটুকু ছাড় আমরা দেব অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে তারচেয়ে অনেকগুন বেশি।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com