1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫

নকলায় করোনা আক্রান্ত এক চিকিৎসক সুস্থ হয়ে ফিরেছেন

  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২০
  • ৩৮২ Time View

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর থেকে :

শেরপুরের নকলা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৮) নামে করোনা আক্রান্ত এক চিকিৎসক সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে ওঠেছেন। কিছু দিনের মধ্যে নিজের কর্মস্থল নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান।

শনিবার (২ মে) সাড়ে এগারোটার দিকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা আইসোলেশন থেকে তাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমানের অফিস কক্ষে কয়েকজন চিকিসৎক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতে এ ছাড় পত্র প্রদান করা হয়।

ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান এর বাড়ি নোয়াখালীতে হলেও নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হন। গত ১৫ এপ্রিল বুধবার তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ১৭ এপ্রিল শুক্রবার তাঁর শরীরে নভেল করোনা ভাইরাস (কভিট-১৯) শনাক্ত হওয়ার পর থেকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমানের ত্বত্তাবধানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান আইসোলেশনে থাকাবস্থায় ২৭ এপ্রিল সোমবার ও ২৯ এপ্রিল বুধবার দুই দফায় নমুনা পরীা করায় তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি নেগেটিভ আসে। এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছেন, তাই শনিবার দুপুরে আইসোলেশন থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জনান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে করোনা আক্রান্তের সন্দেহে উপজেলার ১৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নকলা হাসপাতালের চিকিৎসক সৌরভ কুমার সরকার ও ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ বাগানের মালী রমজান আলী এ ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাছাড়া উপজেলার বাসিন্দা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কর্মচারী মো. রনি মিয়া ও ঢাকা ফেরত গর্ভবতী মা সরুফা বেগম সন্তান প্রসবের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তাদের করোনা পজেটিভ আসে।

নকলা হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আবু কাউসার বিদ্যুত জানান, ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান নকলা হাসপাতালের আইসোলেশনে, ডা. সৌরভ কুমার সরকার, মো. রনি মিয়া ও সরুফা বেগম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এবং রমজান আলী শেরপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান, সরুফা বেগম ও রমজান আলী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে ওঠেছেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান। সহকারী সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান-কে নকলা হাসপাতালের আইসোলেশন থেকে ছাড় পত্র দেওয়া হয়েছে। সরুফা বেগম ও রমজান আলী-কে আগামীকাল রোববার সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাড় পত্র দেওয়া হতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত থেকে সুস্থ্য হওয়া সহকারী সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সচেতনতা অবলম্ভন করলে ও নিয়ম মেনে চললে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি” জাতীয় ফল ও শাক সবজি খাবার খেলে, কিছুক্ষণ পর পর লবন বা ভিনেগার মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে গড়া গড়া করলে, সম্ভব হলে আধা ঘন্টা পর পর গরম পানি পান করলে এবং আইসোলেশনের সকল নিয়ম কানুন মেনে চললে করোনা ভাইরাস সেড়ে যায়; আমি এর বাস্তব প্রমান। তবে সামাজিক ভাবে অনেকে করোনা ভাইরাসকে ভয় করেন ও রোগীকে হেয় চোখে মূল্যায়ন করেন। তাই সকলের প্রতি তাঁর আহবান- নভেল করোনা ভাইরাস (কভিট-১৯) এর কারনে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হউন। এই ভারাস জনিত রোগ অন্য সকল রোগের মতোই, তবে সচেতনতার অভাব হলে সমস্যাতে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায় বলে তিনি মনে করেন।।

হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার এই খবরে উপজেলাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ঘটনাকে উপজেলাবাসীসহ সকলের জন্য একপ্রকার কেস স্টাডি হিসেবে উল্লেখ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমানসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com