বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কৃষকের টাকায় হাওরের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। গত চার বছর ধরে কৃষকরা নিজেদের অর্থ দিয়ে সড়ক পাকাকরণ কাজ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক নির্মাণে কোন উদ্যাগ গ্রহণ না করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকরা জানান,জগন্নাথপুর পৌর শহরের শেরপুর থেকে নলুয়ার হাওরের হরতাজপুর (ত্রিশ নামের) সড়কটি পাকাকরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও সড়ক নির্মাণে কেউ কোন উদ্যাগ গ্রহণ করেনি।বাধ্য হয়ে কৃষকরা নিজেদের অর্থ দিয়ে সড়ক পাকাকরণ কাজ শুরু করেন। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এসড়কে ২০১৭ সালে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০০ ফুট পাকাকরণ কাজ হয়,২০১৮সালে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ ফুট ২০১৯ সালে সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০০ ফুট ও চলতি বছর ২০২০ সালে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ কাজ করা হয়।
কৃষক নেতা জগন্নাথপুর পৌর এলাকার শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুর রহমান জানান,জগন্নাথপুর পৌর শহরের শেরপুর থেকে নলুয়ার হাওরের হরতাজপুর পর্যন্ত ত্রিশ নামের সড়কের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। এ সড়ক দিয়ে নলুয়ার হাওরের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির ধান উত্তোলন হয়।সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাঁদাযুক্ত হয়ে সব ধরনের যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এলাকার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সড়ক পাকাকরণ কাজের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন।গত বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সড়কের কাজ পরিদর্শন করে এবছর কমপক্ষে এক কিলোমিটার কাজ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রাপাশা গ্রামের কৃষক রজত গোপ বলেন, গুরুত্বপূর্ন এ সড়কটি পাকা না থাকায় প্রতি বছর বৈশাখ মাসে ধান তুলতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যে কারণে অনেক কৃষক জমি অনাবাদি রেখেছেন। রজতসহ এলাকার কৃষকদের দাবি সরকার প্রতি বছর ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও ধান উত্তোলনের সড়ক নির্মাণে কোন পদক্ষেপ না নেওয়া দুঃখজনক।
শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দপ্তরে বার বার ধর্না দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কৃষক, এলাকার বৃত্তবান ও প্রবাসীদের অর্থায়নে আমরা সড়কের কাজ করছি । এভাবে কাজ হলে কবে শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না।
স্হানীয় সরকার জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়কটি জগন্নাথপুর পৌর সভার অংশ থেকে শুরু হওয়ায় পৌরসভা এটি বাস্তবায়ন করার কথা। এটি এলজিইডির আইডিবিহীন সড়ক । এলজিইডি থেকে বাস্তবায়ন করতে হলে পৌরসভা প্রস্তাব দিতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মাহফুজুল আলম বলেন, কৃষকদের উদ্যাগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমি গত বছর সড়কটির কাজ পরিদর্শন করে সরকারিভাবে পাকাকরণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলাম যা প্রক্রিয়াধীন আছে।

Leave a Reply